কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সন্দেহে আটক ১৭ কিশোর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে থানার একটি কক্ষে থাকা কিশোরদের কয়েকজন বেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে ১৭ জন আর থানায় ছিল না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে পুলিশ ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম দাবি করেছেন, কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিবারের সদস্যদের ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন কিশোর থানার বাইরে চলে গেলেও পরে তাদের আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিনভর দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে মোট ২৮ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দাউদকান্দি মডেল থানার একটি বিশেষ কক্ষে রাখা হয়। রাতের দিকে সেখানে থাকা কিশোরদের কয়েকজন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে তারা কক্ষের দরজা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এ সময় কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ারও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর আটক ২৮ জনের মধ্যে ১৭ জন থানার বাইরে চলে গিয়ে পালিয়ে যায় বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে থানার একটি কক্ষের ভাঙা দরজা এবং কয়েকটি ভাঙা প্লাস্টিকের চেয়ার পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সময় ও ঘটনার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। থানার মতো একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনা থেকে একসঙ্গে এতজন আটক কিশোর কীভাবে বেরিয়ে গেল—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কয়েকজন কিশোর থানার বাইরে চলে গেলেও পরে তাদের পুনরায় আটক করা হয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু সন্দেহভাজন কিশোরকে আটকের পর তাদের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে ভিড় করেন। ওই সময় কয়েকজন কিশোর সেখান থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ তাদের আটক করেছে।
তিনি আরও জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য এবং স্থানীয় সূত্রের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন। বিশেষ করে থানার কক্ষে ভাঙচুর হয়েছিল কি না, কতজন কিশোর কীভাবে বেরিয়ে গিয়েছিল এবং পরে তাদের সবাইকে আটক করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় জোরদার হয়েছে। এসব অভিযানে শুধু আটক নয়, কিশোরদের জড়িত হওয়ার কারণ, তাদের পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ এবং অপরাধ থেকে ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও কাজ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক উদ্যোগেরও প্রয়োজন রয়েছে।
দাউদকান্দির এই ঘটনায় শেষ পর্যন্ত আটক কিশোরদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তারা কোন ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পুলিশ মনে করছে, তা পরবর্তী তদন্ত ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করবে।


