খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৩ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, এই কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে একজন মৃত ব্যক্তিকে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তীব্র সমালোচনা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৪ জুলাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। শহিদ মিয়াকে সভাপতি ও মোশারফ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে অনুমোদন দেওয়া হয় ৫১ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি। অভিযোগ অনুযায়ী, ৪ নম্বর সহসভাপতি পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মৃত ব্যক্তি মো. সাহিদকে।
মৃত ব্যক্তির ভাই ও একই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফজলু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বছরখানেকের বেশি হলো আমার ভাই হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু ওয়ার্ড কমিটিতে সহসভাপতি পদে তাঁর নাম থাকাটা ভুলবশত হয়েছে। যদিও আমরা দিয়েছিলাম এক কমিটি, অথচ অনুমোদন হয়েছে আরেক কমিটি।’
স্থানীয় অনেক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, ত্যাগীদের বাদ দিয়ে সভাপতির পছন্দের ও আত্মীয়স্বজনদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির পদবঞ্চিত নেতা আব্দুর রাজ্জাক রাজা বলেন, ‘এসব কমিটিতে দলের জন্য জেল-জুলুমের শিকার ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে তাঁদের আত্মীয়স্বজন এবং কাছের লোকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি এক নেতার এলাকার ৪২ জনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। আর বাকি ওয়ার্ড মিলে ৯ জন কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন।’
তবে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদ মিয়া বলেন, ‘কমিটিতে মৃত ব্যক্তি রয়েছেন—ব্যাপারটি আমার জানা নেই। আমার ছেলে এলে কমিটির লিস্ট বের করে যাচাই করে জানাব। তবে আমার পছন্দের লোক নিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ সঠিক নয়।’
চাপড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হকও একই সুরে বলেন, ‘ওয়ার্ড কমিটিতে মৃত ব্যক্তি রয়েছেন—এ বিষয়টি আমারও জানা নেই। ঘণ্টাখানেক সময় দিলে আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।’ পরে তাঁকে ফোনে কল করা হলেও সাড়া মেলেনি।
উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওয়ার্ড কমিটি গঠনের সময় সার্চ কমিটি, জেলা কমিটি ও থানা কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আমি ছিলাম কো-অর্ডিনেটর। কেউ কথা না বললে কীভাবে বুঝতে পারব। কমিটিতে মৃত কেউ আছেন জানতে পারলে তা হতে দিতাম না।’
খবরওয়ালা/এসআই