খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও মারপিটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সায়াদ ইসলাম শ্রেষ্ঠ বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ৮ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০-৩০ জনকে আসামি করে মামলা করছেন। এ মামলার ২ নম্বর আসামী আমির হামজা মানিকের বাবা ৮ নম্বর আসামি আশরাফুল ইসলাম মতিনকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাবুর রহমান শিহাব। এর আগে গত শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের কুষ্টিয়া পৌরসভা চত্বরে পিঠা উৎসবে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়াদ ইসলাম শ্রেষ্ঠ, হুমাইরা কবির সাদিয়া, মুখ্য সংগঠক এম ডি বেলাল হোসেন বাঁধনসহ কয়েকজনের ওপর হামলা করে হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে হামলা ও মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে।
এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। গতকাল রোববার সকালের দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন ও বিকালের দিকে সাদ্দাম বাজার মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এসময় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। আসামিরা হলেন-কুষ্টিয়া শহরের কমলাপুর এলাকার আশরাফুল ইসলাম মতিনের ছেলে স্যাম সাদিক (২২), জগতি এলাকার আমির হামজা মানিক (২২), থানাপাড়া এলাকার প্রেম (২৩), শাহরিয়ার (২২), সিয়াম (২৩), টোটন (২৩), কমলাপুর এলাকার গোপিজয় (২৩), একই এলাকার মৃত আবু হানিফের ছেলে আশরাফুল ইসলাম মতিন (৫৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতারা বলেন, গত শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের কুষ্টিয়া পৌরসভা চত্বরে পিঠা উৎসবে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়াদ ইসলাম শ্রেষ্ঠ, মুখ্য সংগঠক এম ডি বেলাল হোসেন বাঁধনসহ কয়েকজন। গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এসময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কর্মী ও কিশোর গ্যাং বাহিনীর সদস্যরা অতর্কিত হামলা চালায়।
এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র ছিল। হামলা করে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা আরও বলেন, আমরা কুষ্টিয়া পৌরসভায় গিয়েছিলাম। সেখান আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। প্রায় ৩০ থেকে ৪০জন অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। তাদের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমরা পুলিশকে অভিযোগ জানিয়েছি। মামলা দায়ের করেছি। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছাত্রলীগের কর্মীরা ও কিশোর গ্যাং বাহিনীর সদস্যরা মুস্তাফিজ, শ্রেষ্ঠ, বাধনের ওপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা করে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাবুর রহমান শিহাব বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের ওপর হামলা ও মারপিটের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।