ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পুলিশের থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আগুন এবং রাজপথের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদসহ ১১ জন নামীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি নথিভুক্ত করেন।
মামলার এজাহারে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, মূল আসামিদের তালিকায় রয়েছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ (৫২), সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু (৫৫), দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল হাসান তন্ময় (৩০), কোন্ডা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী মো. রিফাত হোসেন শোভন (৩১), ছাত্রলীগ কর্মী মো. রাহাত (২১), মো. জরিপ ওরফে কালা জরিপ (৩৫), রানা মোল্লা (৪৫), স্বপ্নিল হাসান, কাজল, মনির হোসেন, মো. ইয়ামিন (৪০) ও শাওন হোসেন (৩২)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ইকুরিয়া পশ্চিমপাড়া মসজিদগামী রাস্তার প্রবেশমুখে ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ের সার্ভিস লেনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুরোনো ট্রাকে হঠাৎ আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। বিকট আগুনে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। ঠিক এর ১০ মিনিট পর আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ের ওভারপাসের নিচে মুন্সীগঞ্জগামী সার্ভিস লেনে পর পর দুটি ককটেলের বিকট বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। জোড়া বিস্ফোরণের খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত দুর্বৃত্তরা আঁধারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জনমনে চরম ভীতির সঞ্চার করা, সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং আঞ্চলিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে এই ধরনের নাশকতামূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিল। ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পরপরই পুলিশ পুরো কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকাগুলোতে চিরুনি অভিযান শুরু করে।
এই ঘটনার জের ধরে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর সাউথ টাউন আবাসিক এলাকার সামনে থেকে তিন নারীসহ চারজনকে আটক করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে কামরাঙ্গীরচর থানা যুব মহিলা লীগের সভাপতি পারুল বেগম, কদমতলী থানা যুব মহিলা লীগের সভাপতি হাসিনা শেখ এবং নূরজাহান নামে অপর এক নারী রয়েছেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন করা হয়েছে। আটককৃতদের নাশকতার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।


