সমকালীন হিপ-হপ ও র্যাপের ছন্দের সঙ্গে বাংলা সংগীতের পরিচিত এক সৃষ্টিকে মিলিয়ে নতুন গান প্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী ক্রাউন ইঞ্জিন। ‘কী হইলো!’ শিরোনামের গানটি প্রকাশ করেছে গানচিল মিউজিক। নিজের কথা ও সুরে তৈরি গানটিতে আধুনিক সংগীতের সঙ্গে আবদুল লতিফের কালজয়ী সৃষ্টির একটি পরিচিত অংশ যুক্ত করেছেন শিল্পী।
‘কী হইলো!’ গানটির অন্যতম আকর্ষণ হলো এতে ব্যবহার করা হয়েছে আবদুল লতিফের সৃষ্টি ‘পরের জায়গা, পরের জমি, ঘর বানায়া আমি রই’—এই বহুল পরিচিত পঙ্ক্তি। নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পরিচিত র্যাপ ও হিপ-হপের সংগীতভাষায় এই অংশকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গানচিল মিউজিকের কর্ণধার আসিফ ইকবাল জানিয়েছেন, গীতিকার ও সুরকার আবদুল লতিফের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁর গানের এই অংশ নতুন আয়োজনে রাখা হয়েছে। ফলে গানটিতে একদিকে রয়েছে আধুনিক র্যাপের ছন্দ, অন্যদিকে বাংলা সংগীতের পুরোনো ও পরিচিত সৃষ্টির সঙ্গে একটি সংযোগ।
নিজের কথা ও সুরে তৈরি গানটি নিয়ে ক্রাউন ইঞ্জিন জানান, র্যাপের ছন্দের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের সংগীতভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তাঁর নিজস্ব পরিবেশনার ধরন এবং আধুনিক সংগীতের প্রতি আগ্রহ গানটির কাঠামোতেও প্রতিফলিত হয়েছে।
গানটির কোরাসে কণ্ঠ দিয়েছেন আলী আদনান আদর। সংগীত আয়োজন করেছেন ক্রিটিক্যাল মাহমুদ। বিট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করেছেন এম আর রাব্বি। গিটারে ছিলেন আরিয়ান হাসান ও তীর্থ চক্রবর্তী। অর্থাৎ কণ্ঠ, র্যাপ, বিট এবং লাইভ গিটারের সমন্বয়ে গানটির সংগীতায়োজন সাজানো হয়েছে।
‘কী হইলো!’ গানটির রেকর্ডিং হয়েছে ‘হল অব ক্রিটিকস’ স্টুডিওতে। রেকর্ডিং ও প্রযোজনার কাজ শেষ হওয়ার পর গানটি শ্রোতাদের জন্য প্রকাশ করেছে গানচিল মিউজিক। বর্তমানে গানচিল মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে গানটি শোনা যাচ্ছে।
বাংলা সংগীতে পুরোনো সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের সংগীতধারার সঙ্গে যুক্ত করার প্রবণতা নতুন নয়। তবে র্যাপ ও হিপ-হপের মতো সমকালীন ধারার সঙ্গে পরিচিত একটি পুরোনো গানের পঙ্ক্তি যুক্ত হলে সেটি আলাদা ধরনের শ্রুতিঅভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। ‘কী হইলো!’-তে সেই সমন্বয়েরই একটি প্রয়াস দেখা গেছে।
গানটির মূল কাঠামো তৈরি হয়েছে ক্রাউন ইঞ্জিনের কথা ও সুরকে কেন্দ্র করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে র্যাপের ছন্দ, কোরাসের কণ্ঠ এবং গিটারের বাদ্যযন্ত্র। আবদুল লতিফের গানের পরিচিত পঙ্ক্তি পুরো আয়োজনটিতে বাংলা সংগীতের ঐতিহ্যের একটি স্মরণযোগ্য উপাদান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
আধুনিক সংগীতের শ্রোতাদের পাশাপাশি বাংলা গানের পুরোনো সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত শ্রোতারাও এই আয়োজনে ভিন্ন স্বাদের কিছু খুঁজে পেতে পারেন। ক্রাউন ইঞ্জিনের নতুন গানটি সেই অর্থে সমকালীন র্যাপের সঙ্গে বাংলা সংগীতের ঐতিহ্যকে এক ফ্রেমে আনার একটি সংগীত প্রয়াস।


