নির্ধারিত ট্যারিফ রেটের চেয়ে কম প্রিমিয়ামে বীমা পলিসি ইস্যু করার দায়ে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির মেরিন (কার্গো) উপশ্রেণির বীমা ব্যবসা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। একই সঙ্গে বীমা আইন লঙ্ঘনের কারণে কোম্পানিটির এই উপশ্রেণির নিবন্ধন কেন চূড়ান্তভাবে স্থগিত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আইডিআরএর রেটিং শাখার নন-লাইফ অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের কাছে পাঠানো হয়। আইডিআরএর পরিচালক (রেটিং, অডিট ও জরিপ) মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে ব্যবসা স্থগিত ও কারণ দর্শানোর নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্দেশনার অনুলিপি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, সাধারণ বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আইডিআরএ চেয়ারম্যানের পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থার একটি পরিদর্শক দল গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির প্রধান কার্যালয়ে সশরীরে পরিদর্শন চালায়। এ সময় পরিদর্শকেরা ২০২৬ সালে ইস্যুকৃত বিভিন্ন বীমা পলিসির নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। এই পর্যালোচনায় পরিদর্শক দল দেখতে পায়, মেরিন (কার্গো) বীমার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ রেট অনুসরণ না করে উল্লেখযোগ্য কম প্রিমিয়াম হারে গ্রাহকদের পলিসি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাজারে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দিতে বিভিন্ন হারে প্রিমিয়াম কমিয়ে পলিসি ইস্যু করার তথ্য পরিদর্শনে উঠে আসে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, নির্ধারিত ট্যারিফ হারের চেয়ে কম প্রিমিয়াম গ্রহণ করার এই ঘটনা বীমা আইন, ২০১০-এর ৬০ ধারা এবং আইডিআরএর জারি করা নন-লাইফ ৮৩/২০২১ নম্বর সার্কুলারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রচলিত আইন ও সার্কুলার লঙ্ঘনের দায়ে বীমা আইন, ২০১০-এর ১০(২) ধারা অনুযায়ী কোম্পানিটির মেরিন (কার্গো) উপশ্রেণির বীমা ব্যবসা আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলো। পাশাপাশি একই আইনের ১০(১) ধারা অনুযায়ী কেন এই উপশ্রেণির নিবন্ধন স্থগিত করা হবে না, তার কারণ ব্যাখ্যা করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে আইডিআরএ।


