চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এবং তাকে বাঁচাতে যাওয়া এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দুজন হলেন—মো. রাহাত (১০) নামে এক শিশু ও দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৫৫)। শিশু রাহাত নগরীর ২ নম্বর গেট মসজিদ গলি এলাকার স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। তার বাবার নাম মো. ফারুক, আর পরিবারের আদি নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজের পরপরই ষোলশহর স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনের ওপর অসাবধানতাবশত হাঁটছিল শিশু রাহাত। ঠিক সে সময় কক্সবাজারগামী দ্রুতগতির ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ট্র্যাকে চলে আসে। বিপদের আশঙ্কায় নিকটেই দাঁড়িয়ে থাকা দেলোয়ার হোসেন মিন্টু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক মুহূর্ত দেরি না করে লাইনে ছুটে যান। তিনি রাহাতকে ধাক্কা দিয়ে রেললাইন থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ট্রেনটির গতি বেশি থাকায় চাকার নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রবীণ দেলোয়ার হোসেন মিন্টু মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
মিন্টুর ধাক্কায় শিশু রাহাত কিছুটা দূরে ছিটকে পড়লেও ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার এক হাত ও এক পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে গুরুতর আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার দুই ঘণ্টা পর রাহাতও মারা যায়।
সন্তানহারা পিতা মো. ফারুক অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে জানান, জুমার নামাজ শেষ করে চটপটি খাওয়ার জন্য তাঁর কাছে মাত্র ২০ টাকা চেয়েছিল রাহাত। টাকা হাতে পাওয়ার পরপরই হাসিমুখে বাইরে বের হয় সে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই খবর পান ছেলে ট্রেনে কাটা পড়েছে। হাসপাতালে গিয়ে ছেলের এক হাত ও এক পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখে থমকে যান তিনি। চিকিৎসক চেষ্টা করলেও রাহাতকে আর বাঁচানো যায়নি।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন কুমার দে ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এই অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে মিন্টু নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে পরিবারের অনুরোধে মরদেহ দুটি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।


