চাঁদাবাজির মামলার পরও হুমকি অব্যাহত উত্তরা এলাকায়

রাজধানীর উত্তরায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের পরও ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আছিয়া আফসানা সুলতানা (৪০) ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে সম্প্রতি উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার পরও স্থানীয় একটি চক্র বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তারা চরম নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১১ নম্বর সেক্টরের জনপদ রোড এলাকায় ফার্নিচার ব্যবসা পরিচালনাকারী আছিয়া আফসানা সুলতানা ও তার পরিবার থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৭ মে সন্ধ্যায় একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় আছিয়ার স্বামী আমিনুল ইসলাম বাপ্পীকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং তাকে রক্ষা করতে গেলে আছিয়াকেও মারধর করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় এজাহারভুক্ত প্রথম আসামি হিসেবে আলফাজ উদ্দিন (৫০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ঢাকা উত্তর মহানগরের ৫১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। তার পাশাপাশি সোলেমান (৪২), আওলাদ (৪৫), সালাম, রাহুল (৩৮), মাসুদ (৩৮), হীরা (৩৮), জুয়েল রাজ (৩৮), আল-আমিন (৩৫), সোহাগ খান (৩৭) এবং আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে প্রধান আসামিসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে একই চক্রের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান। তিনি জানান, তার পরিচালিত রয়েল সাইন লজিস্টিকস (বিডি) লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি জিডি করেন।

তার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ মে সকালে অভিযুক্ত আলফাজ উদ্দিনসহ কয়েকজন তার উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডের বাসার ওয়্যারহাউসে তালা লাগিয়ে দেন। একই সঙ্গে হুমকি দেওয়া হয়, চাঁদা না দিলে ওয়্যারহাউসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। ঘটনার পর প্রায় ১০ দিন অতিবাহিত হলেও ওয়্যারহাউসটি এখনও খুলতে পারেননি বলে তিনি দাবি করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় স্থানীয় আরও একাধিক ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভয়ের কারণে তারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চক্রটি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আবু সাঈদ জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া আছে যাতে কোনো অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ছাড় না পায়। তিনি আরও বলেন, দলীয় পরিচয় থাকলেও কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তরা এলাকায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।