খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় দুলাল হোসেন (৪৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৬ মে) রাতে পাটগ্রাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে নিহতের স্ত্রী রুনা বেগম পাঁচজনকে আসামি করে পাটগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভান্ডারদহ গ্রামের অটোরিকশাচালক দুলাল হোসেনসহ ভ্যান ও ঠেলাগাড়িচালক পাঁচটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একটি কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করে তাদের বসতবাড়িতে যাতায়াত করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাস্তাটি স্থানীয় মুকুল হোসেনের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ায় তিনি সেটিকে নিজের জমি দাবি করে একাধিকবার বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানা গেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার (১৫ মে) সকালে মুকুল হোসেন আবারও বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং দুলাল হোসেনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।
পরদিন শনিবার সন্ধ্যার পর দুলাল হোসেন ও তার পক্ষের লোকজন নিজেদের বাড়ির দক্ষিণ পাশে থাকা ইটের সোলিং করা চলাচলের রাস্তায় কোদাল দিয়ে গর্ত করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে দুলাল হোসেনের ওপর হামলা চালায়। মারধরে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় দুলাল হোসেনকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয় এবং পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত দুলাল হোসেন তিন কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও সন্তানেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা পরিবারসহ এলাকা থেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা টেকসই হয়নি। চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে রাস্তার কিছু অংশে গর্ত করেছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রাথমিক তদন্ত করে। তিনি বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।