খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) সংসদীয় আসনে বড় ধরনের ধাক্কা খেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। মূলত দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় আজ রোববার যাচাই-বাছাই শেষে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার আবু বক্কর সিদ্দিক সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার, যখন প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের সময় মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব থাকার বিষয়টি সামনে আসে। বাংলাদেশের নির্বাচনী আইন ও সংবিধান অনুযায়ী, কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বহাল রেখে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই। এই অসংগতি দূর করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীকে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রমাণাদি জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় প্রদান করেছিলেন। তবে আজ নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তেও তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ত্যাগের কোনো দাপ্তরিক সনদ বা আবেদন বাতিলের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই তার প্রার্থিতা অবৈধ বলে গণ্য করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জামায়াতের প্রায় দুই শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে দলটির নেতাদের বাদানুবাদ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সাংবিধানিক অধিকার প্রার্থীর রয়েছে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রার্থীর নাম | মাহবুবুল আলম সালেহী |
| নির্বাচনী এলাকা | কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) |
| রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা | বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী |
| অভিযোগের ধরণ | দ্বৈত নাগরিকত্ব (যুক্তরাজ্য) |
| বাতিলের ভিত্তি | নাগরিকত্ব ত্যাগের দালিলিক প্রমাণহীনতা |
| পরবর্তী আইনি পথ | নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন |
অন্যদিকে, মাহবুবুল আলম সালেহী প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে পক্ষপাতমূলক বলে দাবি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি এবং কোনো বিশেষ মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, নথিপত্রে অসংগতি থাকায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার আবু বক্কর সিদ্দিক পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, সংক্ষুব্ধ প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে পারবেন।