খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান অবশেষে দেশে ফেরার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে এগোলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে আশাবাদী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পর থেকেই সাকিব বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি। এর আগে তিনি মাগুরা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, যার মধ্যে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে, দায়ের হয়। এসব আইনি জটিলতার কারণেই তিনি পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
সম্প্রতি ভারতের একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে সাকিব বলেন, তিনি আশাবাদী যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ পরিস্থিতির সমাধান হতে পারে এবং তখন দেশে ফেরা সম্ভব হবে। তাঁর ভাষায়, দেশে ফেরা এখন সময়ের ব্যাপার হলেও সেটি কত দ্রুত ঘটবে তা অনিশ্চিত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ফেরা তার জন্য অবশ্যম্ভাবী এবং তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকতে চান না। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধান হবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বর্তমান অবস্থান | যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান |
| দেশে শেষ আগমন | ২০২৪ সালের অক্টোবর (আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময়) |
| প্রত্যাশিত ফেরার সময় | ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ |
| বাধা | একাধিক মামলা ও আইনি জটিলতা |
| অবস্থান | দেশে ফেরার বিষয়ে আশাবাদী |
চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও সাকিবকে জাতীয় দলে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তখন বোর্ডের কর্মকর্তারা তাঁর আইনগত নথিপত্র সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, পাকিস্তান সিরিজের মাধ্যমে তিনি আবারও জাতীয় দলে ফিরতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
সাকিব অভিযোগ করেছেন, আগের ক্রিকেট প্রশাসন তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর মতে, কেবল ইচ্ছা প্রকাশ আর বাস্তব উদ্যোগের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।
বর্তমান ক্রিকেট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সাকিবের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি হলে সাকিবসহ অন্যান্য অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার পথ খোলা থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্রিকেটীয় সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না।
বাংলাদেশের হয়ে শেষবার সাকিব আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের বিরুদ্ধে। এরপর থেকে তিনি জাতীয় দলের বাইরে আছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন এবং দেশের মাটিতে বিদায়ী ম্যাচ খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন, যা এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।