হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক সবজি ব্যবসায়ীসহ তিনজন মারা গেছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার পানিউন্দা ইউনিয়নের বড়চর এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—নবীগঞ্জ উপজেলার কারখানা গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে সবজি ব্যবসায়ী মশহুদ আহাম্মদ (৪০), ইনাতগঞ্জ বাজার এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে ময়না মিয়া (৪২) এবং দক্ষিণগ্রাম ইনাতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা কাশেম মিয়া (৫০)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালের দিকে কয়েকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী একটি পিকআপে চড়ে দিগম্বর বাজারে কাঁচামাল আনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পিকআপটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জের বড়চর এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক অর্থাৎ ঢাকা থেকে সিলেটগামী ‘লাকি পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সজোরে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে।
সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপে থাকা সবজি ব্যবসায়ী মশহুদ আহাম্মদ ছিটকে মহাসড়কের ওপর গিয়ে পড়েন। সে সময় ঘাতক বাসটি তাঁকে পিষে দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পিকআপের চালকসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে ময়না মিয়া ও কাশেম মিয়ার মৃত্যু হয়। বর্তমানে একই হাসপাতালে আরও অন্তত দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালায়। একজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস ও পিকআপ দুটিকে উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য