খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
জাতীয় সংসদে গতকাল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা বাতিলসংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে উভয় সংস্থার চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে পূর্বে থাকা বয়স-সংক্রান্ত বাধা আর থাকছে না।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন সংশোধনী অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের জন্য বিদ্যমান সর্বোচ্চ পঁয়ষট্টি বছর বয়সসীমা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সংশোধনীতে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য প্রচলিত সর্বোচ্চ সাতষট্টি বছর বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিল দুটি পাসের সময় সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক হয়। বিরোধী দলীয় সদস্যরা সংশোধনের সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নিয়োগ, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে সরকারি দলের সদস্যরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিল দুটি জনমত যাচাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন, যার ফলে আনুষ্ঠানিক আলোচনা সীমিত হয়ে আসে। পরে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পান এবং প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যদের হাতে সময়মতো বিল পৌঁছায়নি এবং আলোচনার সুযোগ সংকুচিত করা হয়েছে।
সংসদের স্পিকার জানান, প্রতিবেদন আগের দিনই বিতরণ করা হয়েছিল এবং কার্যপ্রণালি তার এখতিয়ার অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। এরপরই বিল দুটি পাস করা হয়।
বিল পাসের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির আখতার হোসেন প্রশ্ন তোলেন, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে কি না। তিনি অতীতের একটি উদাহরণ টেনে বলেন, পূর্ববর্তী এক রাজনৈতিক সময়ে প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়স পরিবর্তনের কারণে জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছিল।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সময় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তনের কারণে এ সংশোধন প্রয়োজন ছিল। তাঁর মতে, অতীতে যখন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল তখন গড় আয়ু ছিল অনেক কম, কিন্তু বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, যোগ্য ব্যক্তিরা যদি দীর্ঘ সময় কাজ করতে সক্ষম হন, তবে বয়সের সীমা অপ্রয়োজনীয় বাধা হতে পারে।
তিনি আরও জানান, সংসদীয় কার্যবিধি অনুযায়ী বিল পাসের পর বিতর্কের সুযোগ সীমিত থাকলেও উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সাম্প্রতিক নিয়োগে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠছে। একইসঙ্গে বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁর অপসারণের দাবি জানান।
সরকারি পক্ষ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকা মানেই দলীয় নিয়োগ নয় এবং পূর্ববর্তী সময়েও একই ধরনের নিয়োগ হয়েছে। তারা বর্তমান গভর্নরের কর্মক্ষমতা ও ভূমিকার প্রশংসা করেন।
| সংস্থা | পূর্ববর্তী বয়সসীমা | নতুন অবস্থা |
|---|---|---|
| বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন | সর্বোচ্চ ৬৫ বছর | বয়সসীমা বাতিল |
| বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ | সর্বোচ্চ ৬৭ বছর | বয়সসীমা বাতিল |
সংশোধনী দুটি পাসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর শীর্ষ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হলেও রাজনৈতিক বিতর্ক ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।