খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ সম্মানে ভূষিত হতে যাচ্ছেন। উপমহাদেশের সংগীত ইতিহাসে অনন্য অবদান রাখা এই কণ্ঠশিল্পী প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতাদের হৃদয়ে সমানভাবে সমাদৃত। বাংলা গানের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষার গানে তার অসাধারণ কণ্ঠস্বর তাকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করেছে।
ভারতের দিল্লিতে আগামী ৪ মে শুরু হতে যাচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, যা চলবে ৮ মে পর্যন্ত। এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় শিল্পকলা কেন্দ্র এবং আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্র—এই দুই প্রধান স্থানে। সমাপনী দিনে রুনা লায়লার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
এই সম্মাননা প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন, এটি শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও এক বিরাট গর্বের বিষয়। তিনি নিজেকে একজন বাংলাদেশি শিল্পী হিসেবে এই স্বীকৃতি পেয়ে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছেন। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে চিঠির মাধ্যমে তাকে এই সম্মানের বিষয়টি জানানো হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, তার নতুন একটি গান শিগগিরই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। গানটি শুরুতে একক কণ্ঠে গাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে এটি যুগল সংগীতে রূপ নেয় বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে। শুরুতে বাপ্পা মজুমদার কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন, তবে পরে রুনা লায়লার উৎসাহে তিনি এই সহযোগিতায় যুক্ত হন।
গানটির বিষয়ে রুনা লায়লা জানান, এতে নতুন ধরনের সুরের সংমিশ্রণ রয়েছে এবং এতে গজলধর্মী আবহ তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই ধরণের গান তিনি আগে কখনও গাইেননি, যা তাকে নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে। গানটির কথা লিখেছেন গালিব হাসান এবং সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন বাপ্পা মজুমদার।
সংগীতের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তিনি এখনও নিয়মিত গান গাইতে পারছেন, যা তার জন্য বড় সৌভাগ্য। তিনি আরও জানান, যতদিন সম্ভব তিনি শ্রোতাদের জন্য গান করে যেতে চান।
সম্প্রতি সিলেটে একটি মঞ্চে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে গান পরিবেশন করেন রুনা লায়লা। এই অভিজ্ঞতাকে তিনি অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও পরিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, মঞ্চে শ্রোতাদের ভালোবাসা পাওয়া তার জন্য এক অনন্য প্রাপ্তি।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আয়োজনের সময় | ৪ মে থেকে ৮ মে |
| স্থান | দিল্লি (ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় শিল্পকলা কেন্দ্র ও আম্বেদকর আন্তর্জাতিক কেন্দ্র) |
| সম্মাননা প্রদান | সমাপনী দিন, ৮ মে |
| সম্মানপ্রাপ্ত শিল্পী | রুনা লায়লা |
| সহশিল্পী সহযোগিতা | বাপ্পা মজুমদার |
| গানের ধরন | গজলধর্মী আধুনিক সুর |
রুনা লায়লার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু তার দীর্ঘ সংগীতজীবনের স্বীকৃতি নয়, বরং বাংলাদেশের সংগীত ঐতিহ্যেরও একটি গর্বিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।