বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পেনশন কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার বিস্তার ও কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিমিয়া সাদাত এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এমওইউতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় কমিউনিটি ব্যাংক দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত নিজস্ব শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে সর্বজনীন পেনশন কাঠামোর অধীনে পরিচালিত চারটি মূল স্কিমের নিয়মিত মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করবে। ব্যাংকিং অবকাঠামোর এই সংযুক্তি পেনশন ব্যবস্থার পরিধি ও নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় পেনশন কর্মসূচি মূলত একটি রাষ্ট্রীয় সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ, যার লক্ষ্য সরকারি কর্মচারীদের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমাজের সব স্তরের মানুষকে অবসরকালীন সঞ্চয়ের আওতায় আনা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি, বেসরকারি খাতের কর্মজীবী, স্বনিয়োজিত ব্যক্তি এবং নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিত অবসর সুরক্ষার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ও শৃঙ্খলিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলে বার্ধক্যে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
কমিউনিটি ব্যাংক যুক্ত হওয়ায় নিবন্ধিত পেনশনভোগীরা সরাসরি ব্যাংক কাউন্টার থেকে মাসিক কিস্তি জমা দিতে পারবেন। গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী হবে, যেখানে এখনো ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তার তুলনামূলক কম এবং আর্থিক সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার এই উদ্যোগ তাদের জনকল্যাণমুখী ব্যাংকিং দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে, তফসিলি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব চাঁদা সংগ্রহের ধারাবাহিকতা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারের ফলে হিসাব ব্যবস্থাপনা সহজ হয় এবং কর্মসূচির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।
অর্থনীতিবিদ ও নীতিবিশ্লেষকদের মতে, সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে টেকসই ও কার্যকর করতে আরও বেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। ধীরে ধীরে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লে জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত, শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য রূপ পাবে।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমসমূহের সংক্ষিপ্ত চিত্র
| স্কিমের নাম | লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠী | মূল উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| প্রবাস | প্রবাসী বাংলাদেশি | বিদেশে কর্মরত নাগরিকদের অবসর সঞ্চয় নিশ্চিত করা |
| প্রগতি | বেসরকারি খাতের কর্মজীবী | অবসরোত্তর স্থিতিশীল আয় নিশ্চিত করা |
| সুরক্ষা | স্বনিয়োজিত ব্যক্তি | প্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রের বাইরে সামাজিক সুরক্ষা |
| সমতা | নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী | অন্তর্ভুক্তিমূলক পেনশন কাভারেজ সম্প্রসারণ |
এই চুক্তির মাধ্যমে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে, আর জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও সর্বজনগ্রাহ্য পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।