খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৬ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পুরান ঢাকায় আবারও বাসার সিঁড়িতে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে বংশালের আগামসিহ লেনের ৯৩/১ নম্বর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে চারতলার সিঁড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় শিক্ষার্থীর গলায় জিআই তার পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম সজিব (১৯)। তিনি সম্প্রতি বংশালের আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন।
বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দুলাল হক বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ওই বাসার চারতলার সিঁড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে পরিচয় অজানা থাকলেও পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। মরদেহটি উপুড় হয়ে পড়ে ছিল এবং গলায় জিআই তার পেঁচানো ছিল। জানা গেছে, চারতলায় একটি পরিবার থাকত, বাকিটা গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ঘটনাস্থলের ওই বাসাটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিক্ষার্থীকে গলায় জিআই তার পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত সজিবের চাচাতো ভাই মো. ইসলাম বলেন, “সজিবদের বাসা বংশালের আগামসিহ লেনে। সে এবার আহমেদ বাওয়ানী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল, তবে অকৃতকার্য হয়। কয়েক দিন আগে তাবলিগের সঙ্গে দোহার গিয়েছিল, গতকাল বাসায় ফেরে। আজ দুপুর ৩টার দিকে ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়, পরে বিকেলে জানতে পারি, একটি বাসার সিঁড়িতে সজিবের মরদেহ পাওয়া গেছে।”
তিনি আরও জানান, “যে বাসায় সজিবের মরদেহ পাওয়া গেছে, সেটির চারতলায় সজিবের প্রেমিকা খাদিজাদের বাসা। খাদিজার বাবা জীবিত নেই। ঘটনার পর থেকে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ছয় বছর ধরে খাদিজার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সজিবের। একবার মনোমালিন্য হলেও তারা আবার মিলে যায়। তবে খাদিজার মামারা সম্পর্কটি মেনে নিতে পারেননি।”
পরিবারের অভিযোগ, খাদিজার দুই মামা ইকবাল ও কামাল মিলে সজিবকে হত্যা করেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকার একটি বাসার সিঁড়িতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডটি ‘ত্রিভুজ প্রেমের’ জের ধরে ঘটেছিল।
খবরওয়ালা/টিএসএন