খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গাছের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন ব্যক্তি গুরুতর জখম ও আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) বিকেলে উপজেলার মনাকষা-চৌকা নামক এলাকায় এই আইনশৃঙ্খলার অবনতি সৃষ্টিকারী ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা-চৌকা এলাকার বাসিন্দা মাহিদুর রহমানের সঙ্গে একই এলাকার বাসিন্দা মুকুল নামে এক ব্যক্তির একটি নির্দিষ্ট জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই জমিজমা সংক্রান্ত পুরনো শত্রুতার জেরে মঙ্গলবার বিকেলে ওই বিরোধপূর্ণ জমিতে অবস্থিত একটি গাছের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মৌখিক তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে এই ঘটনার পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের সমর্থক ও আত্মীয়স্বজনরা লাঠিসোঁটা, বাঁশ এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর হামলে পড়ে এবং এক ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের এই আকস্মিক ও এলোপাতাড়ি হামলায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলেই উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন ব্যক্তি কমবেশি আহত হন।
সংঘর্ষের তীব্রতা কমে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত ও আহতদের উদ্ধার করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে আহতদের মধ্যে দুইজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর বা রেফার করা হয়। বাকি আহত ব্যক্তিরা শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই শিবগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মনাকষা-চৌকা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সক্ষম হয়।
এই আইনভঙ্গ ও মারামারির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকা থেকে দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পুলিশের বক্তব্য: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে দুইজনকে থানায় আনা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বর্তমানে মনাকষা-চৌকা এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই জমিজমা ও আম পাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষের বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ এই সংঘর্ষে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে এবং দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করতে পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে থানা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার পর এলাকায় স্থায়ী শান্তি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।