গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের দিগাবো গ্রামে এক বিরল ও আনন্দঘন ঘটনার জন্ম হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচটি সন্তানের জন্ম দিয়ে আলোচনায় এসেছেন স্থানীয় গৃহবধূ মাসুমা আক্তার (৩০)। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে মা ও পাঁচ নবজাতক সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছেন, যা পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিগাবো গ্রামের বাসিন্দা কাজল মিয়ার স্ত্রী মাসুমা আক্তার গত পাঁচ এপ্রিল প্রসববেদনা অনুভব করলে তাঁকে রাজধানীর একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তিনি একসঙ্গে তিন পুত্র ও দুই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। জটিল এই প্রসব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি নবজাতক জন্মের ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত বিরল। সাধারণত এ ধরনের একাধিক জন্মে শিশুদের ওজন তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং ঝুঁকির মাত্রা বেশি হয়। তবে এই ক্ষেত্রে পাঁচটি শিশুর মোট ওজন প্রায় আট কেজি হওয়ায় পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল। প্রতিটি শিশুর গড় ওজন প্রায় এক হাজার চারশ থেকে এক হাজার পাঁচশ গ্রাম পর্যন্ত ছিল, যা আশাব্যঞ্জক বলে মনে করা হচ্ছে।
নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে চিকিৎসকরা জানান, জন্মের পর থেকে মা ও সন্তানদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল এবং কোনো জটিলতা দেখা যায়নি। পাঁচ দিনের চিকিৎসা শেষে তাঁদের সুস্থ ঘোষণা করা হয় এবং শুক্রবার বিকেলে বাড়ি পাঠানো হয়।
নিচে নবজাতকদের আনুমানিক ওজনের একটি বিবরণ দেওয়া হলো—
| নবজাতকের ক্রম |
লিঙ্গ |
আনুমানিক ওজন (গ্রাম) |
| প্রথম সন্তান |
পুত্র |
১৪৫০ |
| দ্বিতীয় সন্তান |
কন্যা |
১৪০০ |
| তৃতীয় সন্তান |
পুত্র |
১৫০০ |
| চতুর্থ সন্তান |
কন্যা |
১৪৫০ |
| পঞ্চম সন্তান |
পুত্র |
১৪৫০ |
এদিকে, বিরল এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দিগাবো গ্রামে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। আশপাশের এলাকা থেকেও অনেকে নবজাতকদের এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন। স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই পরিবারের জন্য শুভকামনা জানাতে তাঁদের বাড়িতে যাচ্ছেন।
তবে পরিবারটি বর্তমানে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নবজাতকদের সুস্থতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা আপাতত গণমাধ্যমে সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, সন্তানদের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এই বিরল জন্মের ঘটনা স্থানীয়ভাবে যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি পুরো অঞ্চলে এক আনন্দময় আবহ তৈরি করেছে।