খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে রিয়াল মাদ্রিদের ৩-২ গোলে পরাজয়ের পর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য ফুটবল ভক্তদের নজরে এসেছে। ম্যাচ শেষে বিজয়ী বার্সেলোনা দলকে রীতি অনুযায়ী ‘গার্ড অব অনার’ বা সম্মান প্রদানের প্রথা রক্ষা করতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা। এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন রিয়ালের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ম্যাচের বিবরণ অনুযায়ী, জেদ্দার কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। হঠাৎ ওঠা গোল, লাল কার্ড এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে বার্সেলোনা জিতেছে। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর সাধারণত বিজয়ী দলের জন্য ‘পাসিও’ প্রথা অনুযায়ী পরাজিত দল দুই সারিতে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে সম্মান জানায়।
কিন্তু এমবাপ্পে অবশ্য অন্য মেজাজে ছিলেন। হাঁটুর চোটের কারণে ম্যাচের প্রথমার্ধে খেলার বাইরে ছিলেন তিনি। কোচ জাবি আলোনসো গনসালো গার্সিয়াকে প্রথম একাদশে খেলিয়েছিলেন। বিরতির পর এমবাপ্পে মাঠে নামলেও দলের খেলার গতি পরিবর্তন করতে পারেননি। মাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাউল আদায় করেছিলেন, যার ফলে ফ্রেঙ্কি দে ইয়ংকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
ম্যাচ শেষে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এমবাপ্পে সতীর্থদের ডাগআউটে নিয়ে যাচ্ছেন এবং যখন তরুণ ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিও বার্সেলোনাকে সম্মান জানাতে লাইনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন, এমবাপ্পের চোখে-মুখে ছিল বিরক্তি ও ক্ষোভ। শেষ পর্যন্ত তার নির্দেশে রিয়ালের কোনো খেলোয়াড়ই বার্সেলোনাকে ‘গার্ড অব অনার’ দিতে এগোয়নি।
রিয়াল মাদ্রিদ জার্সিতে এটি এমবাপ্পের তৃতীয় ফাইনাল হার, যা হয়তো তার মানসিক উত্তেজনার কারণ হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। বার্সা সমর্থকরা এমবাপ্পের এই আচরণকে ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ উল্লেখ করেছেন। বার্সেলোনা ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘বার্সা টাইমস’ মন্তব্য করেছে, “পুরো বিষয়টি ছিল অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ।”
নিচের টেবিলটি ম্যাচের সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করছে:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ফাইনাল ম্যাচ | রিয়াল মাদ্রিদ vs বার্সেলোনা |
| তারিখ | ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি |
| স্থান | কিং ফাহাদ স্টেডিয়াম, জেদ্দা |
| ফলাফল | বার্সেলোনা ৩ – ২ রিয়াল মাদ্রিদ |
| লাল কার্ড | ফ্রেঙ্কি দে ইয়ং (বার্সেলোনা) |
| গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা | এমবাপ্পে রিয়ালকে বার্সাকে সম্মান দিতে বাধা দিয়েছেন |
এই ঘটনার পর স্প্যানিশ ফুটবলের সমালোচনার ঝড় বইছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতি রীতি ও খেলার সৌন্দর্যকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এমবাপ্পের পদক্ষেপে রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন, এবং এটি সমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।