খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৯:২৬ পিএম
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণের চাল বিক্রির অভিযোগ ঘিরে চরম উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়ার পর এক বিএনপি নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওই নেতার নাম আবুল হাসেম মেম্বার। তিনি চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলের দিকে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের রিফিউজি পাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাত সাড়ে ৭টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি পুলিশ হেফাজতেই ছিলেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য আসা ত্রাণের চাল ক্ষতিগ্রস্তদের না দিয়ে গোপনে রিফিউজি পাড়ার স্থানীয় কয়েকটি দোকানে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছিল—এমন অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা হাসেম মেম্বারকে হাতেনাতে ঘেরাও করেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিএনপি নেতাসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গাড়িচালক চয়ন বড়ুয়াকে (৪০) নিজেদের জিম্মায় নেয়।
অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই বস্তা ত্রাণের চাল এবং পরিবহনকাজে ব্যবহৃত একটি চাঁন্দের গাড়ি (ঢাকা-মেট্রো-গ-০৬-০০৩০) জব্দ করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম সাকের জানান, ত্রাণের চাল বিক্রির সময় স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে তাদের খবর দেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপি নেতাসহ দুজনকে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। পুরো বিষয়টি কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির স্থানীয় প্রবীণ ও শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে দাবি করেছেন কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ। তিনি জানান, জেলা পরিষদ থেকে পাওয়া ত্রাণের চাল ইতোমধ্যেই বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ঠিকভাবেই বণ্টন করা হয়েছে। গাড়ির চালককে ভাড়ার বাবদ দুই বস্তা চাল দেওয়া হয়েছিল, যা পুলিশ জব্দ করেছে। থানা থেকে বিষয়টি জানানোর পর দলের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল গেছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য