খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ৭:২৪ পিএম
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় প্রতিবেশী এক গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড জামায়াতের এক নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আহত ওই নেতার নাম ফারুক হোসেন প্যাদা। তিনি দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মারধরের পর তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে গৃহবধূর সঙ্গে ফারুক হোসেনের কথিত সম্পর্কের অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে একটি গৃহবধূর বসতঘরের আশপাশে ফারুক হোসেন প্যাদাকে দেখতে পান কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। এ সময় তারা তাকে আটক করেন। পরে ওই গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তিনি আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ওই গৃহবধূর শাশুড়ি দাবি করেন, ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তার পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন। তিনি নানাভাবে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি টাকা-পয়সার প্রলোভন দেখাতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, একপর্যায়ে ফারুক হোসেন ও ওই গৃহবধূর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। শুরুতে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বিশ্বাস করতে না চাইলেও পরে কিছু ছবি দেখার পর তারা কথিত সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত হন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন প্যাদা। তার দাবি, পরকীয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং পূর্ববিরোধ এবং ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাইদুল, পারভেজসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালিয়েছে। মারধরের সময় তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যেই পরকীয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হলেও অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের কোনোটিই এখনো তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিশ্চিত করতে আইনগত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, মারামারির খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তা একই সঙ্গে স্থানীয়দের সতর্ক করে বলেন, কোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেন। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে মারধর করা বা শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তার পাল্টা দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও সম্ভাব্য প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা স্পষ্ট হতে পারে।
মন্তব্য