খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে বাংলাদেশে বিদেশি অর্থায়নের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে এ অর্থায়ন প্রায় উনিশ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে ঋণ পরিশোধের চাপও বেড়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
বহিঃসম্পদ বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ হিসেবে পেয়েছে প্রায় ৩৮৯ কোটি মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৮০ কোটি মার্কিন ডলার। ফলে এক বছরে প্রাপ্ত অর্থায়নে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
অন্যদিকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি অর্থায়ননির্ভর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৬ শতাংশে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প অনুমোদন, জমি অধিগ্রহণ এবং প্রশাসনিক জটিলতা এই ধীরগতির প্রধান কারণ।
এদিকে ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। চলতি সময়ে বাংলাদেশকে ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ৩৫২ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে সুদ পরিশোধ বাবদই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২৪ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজস্ব আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও বহুপাক্ষিক সংস্থার নতুন প্রতিশ্রুতিও কমেছে। আলোচ্য সময়ে মোট প্রতিশ্রুতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কম। সব প্রতিশ্রুতিই মূলত প্রকল্প সহায়তা হিসেবে এসেছে।
বিশেষ করে রাশিয়া থেকে প্রায় ৮২ দশমিক ৮ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন এসেছে, যা একক দেশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব নির্দেশ করে।
| সূচক | জুলাই-মার্চ (চলতি অর্থবছর) | আগের বছরের একই সময় | পরিবর্তন |
|---|---|---|---|
| বিদেশি অর্থায়ন প্রাপ্তি | ৩৮৯ কোটি মার্কিন ডলার | ৪৮০ কোটি মার্কিন ডলার | কমেছে ১৯ শতাংশ |
| উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হার | ৩৪.৫৬ শতাংশ | ৩৫.৮ শতাংশ | সামান্য কম |
| ঋণ পরিশোধ | ৩৫২ কোটি মার্কিন ডলার | ৩২১ কোটি মার্কিন ডলার | বেড়েছে ৯ শতাংশ |
| সুদ পরিশোধ | ১২৪ কোটি মার্কিন ডলার | তথ্য নেই | বৃদ্ধি |
| মোট প্রতিশ্রুতি | ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার | ৩০০+ কোটি মার্কিন ডলার | কমেছে ৬.৬ শতাংশ |
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং ঋণ পরিশোধ বৃদ্ধি একসঙ্গে চলতে থাকলে আগামী মাসগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চাপ আরও বাড়তে পারে। উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।