খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ১০:২২ পিএম
সিলেটে দীর্ঘদিন পর নতুন করে আবারও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত কয়েক মাসে করোনা সংক্রমণ একপ্রকার শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় সাধারণ মানুষের মাঝে যে স্বস্তি ফিরেছিল, এই নতুন সংক্রমণের খবর স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগে বাড়তি সতর্কতা তৈরি করেছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস পর সিলেট বিভাগে আবারও একজনের শরীরে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তির বয়স ৫৫ বছর। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে উক্ত ব্যক্তির শারীরিক অসুস্থতা ও করোনার লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে পরীক্ষার ফলাফলে তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। আক্রান্ত রোগীর সুরক্ষার স্বার্থে এবং সংক্রমণ ছড়ানো রোধে তাকে দ্রুত সিলেটের কোভিড চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত ডেডিকেটেড হাসপাতাল শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের বিশেষ আইসোলেশন কেবিনে রেখে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছেন চিকিৎসকরা।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম বিষযেটি নিশ্চিত করে জানান যে, ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা স্বজনদের বিষয়েও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রয়োজনীয় খবরাখবর নিচ্ছেন, যাতে ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তার শুরুতেই থামিয়ে দেওয়া যায়।
এর আগে সিলেট অঞ্চলে সর্বশেষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৫ জুন। এর পর থেকে দীর্ঘ দিন ধরে এখানে নতুন কোনো করোনা রোগী পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাসের বিরতি শেষে নতুন করে সংক্রমণ ধরা পড়ায় সাধারণ মানুষকে আবারও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও বিশ্বজুড়ে করোনার ভয়াবহতা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে, তবুও নতুন কোনো ধরন বা পরিবর্তিত বৈচিত্র্যের কারণে হঠাৎ ব্যক্তিগত অসাবধানতায় স্থানীয় পর্যায়ে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ, শিশু ও দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য যেকোনো ভাইরাসের আক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ কারণে জনবহুল স্থানে মাস্ক ব্যবহার করা, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার মতো মৌলিক অভ্যাসগুলো বজায় রাখার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ গুরুত্বারোপ করেছে। সিলেটের সার্বিক সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
মন্তব্য