জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের আয়োজিত কনসার্টে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনে কাঁঠালতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কনসার্ট চলার সময় স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে জবি শাখা ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দারের অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে তা দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনায় আহত তিনজন হলেন গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল আহমেদ মিথিল, কেমিস্ট্রি বিভাগের ১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাওন এবং মনির। সংঘর্ষের পর তিনজনই চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামাল হোসেন জানান, তিনজন চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত ছিল। একজনকে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে ব্যক্তিগত পর্যায়ে তর্ক-বিতর্ক ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কাঁঠালতলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। তবে ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে গড়ায়, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার বলেন, সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি তাঁরা মিটমাট করে ফেলেছেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে আগে কিছু জানতেন না। ঘটনার কথা প্রথমবারের মতো শুনেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কনসার্টের মতো একটি সাংগঠনিক আয়োজনের মধ্যে স্টেজে বসাকে কেন্দ্র করে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর বিষয়টির বিস্তারিত চিত্র পরিষ্কার হতে পারে।


