জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজারে অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্য পেট্রোলের দাম দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। একই সময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের একটি অংশজুড়ে নতুন করে ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত টাইমস নাউ-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ রেখা থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা নিয়ে নতুন এই নিষিদ্ধ অঞ্চল গঠন করা হবে। ঘোষিত এলাকায় প্রবেশকারী জলযানগুলোকে ইরানের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলেও তিনি জানান।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনে এই জলপথের ভূমিকা রয়েছে। ফলে অঞ্চলটিতে নতুন কোনো বিধিনিষেধ বা সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার মধ্যে পেট্রোলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান সরকার। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে মাসিক কোটার তৃতীয় ধাপে নির্ধারিত পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ৫ হাজার তোমান থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার তোমান করা হবে। তবে মাসিক কোটার প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে।

সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মহাজেরানি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অর্থাৎ নির্ধারিত সীমার মধ্যে যারা প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের জ্বালানি ব্যবহার করবেন, তাদের জন্য আগের মূল্যই বহাল থাকবে। বাড়তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন দর কার্যকর হবে।

ইরানের অর্থনীতিতে মুদ্রার অবমূল্যায়নও নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরানি রিয়ালের মূল্য ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে খোলাবাজারে এক মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য প্রায় ২২ লাখ রিয়ালে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুদ্রার এই দুর্বলতার ফলে আমদানি ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ এবং সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বেড়েছে।

এর পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক অবরোধ জোরদারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এর আওতায় ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা এবং দেশটির ওপর সামুদ্রিক ও আর্থিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

একদিকে তেল রপ্তানির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ, অন্যদিকে দেশের ভেতরে মুদ্রার দরপতন—দুই দিক থেকেই চাপে রয়েছে ইরানের অর্থনীতি। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত পেট্রোল ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল্য দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত সরকারের রাজস্ব ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কিছুটা চাপ কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সময়ে উপসাগরীয় জলপথে নতুন নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণার উদ্যোগ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

https://bn.khaborwala.com/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।