অনেকে দাঁত ব্রাশ করতে গিয়ে পেস্ট গিলে ফেলেন। বিশেষ করে ছোট শিশুদের বেলায় এমনটা বেশি হয়। এখন প্রশ্ন, টুথপেস্ট খেয়ে ফেললে কী হয়?
টুথপেস্টে থাকা সোডিয়াম ফ্লোরাইড দাঁতের এনামেল শক্ত করতে সাহায্য করে, ক্ষয় রোধ করে। তবে এটি একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা অল্প পরিমাণে নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত হলে ক্ষতিকর হতে পারে।
টুথপেস্ট গিলে ফেলার ফলাফল
- অল্প পরিমাণে গিলে ফেলা সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না, কারণ পেটে পরিমাণমতো শোষণ হয়।
- বেশি গিলে ফেলা এর ফলে ফ্লুরোসিস (দাঁতে সাদা বা বাদামি দাগ) হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।
- অনেক বেশি ফ্লোরাইড গিলে ফেলা হলে বিষক্রিয়া (ফ্লুরোসিস থেকে অনেক বেশি) হতে পারে, যার লক্ষণ হলো বমি, পেট ব্যথা, মাথা ঘোরানো, দুর্বলতা ইত্যাদি।
ফ্লোরাইড কেন জরুরি
ফ্লোরাইড দাঁতের এনামেলকে মজবুত করে। ক্ষয় প্রতিরোধ করে। ক্যাভিটি কমাতে সাহায্য করে। এ জন্য অধিকাংশ টুথপেস্টে এটি ব্যবহার করা হয়। তাই টুথপেস্টে ফ্লোরাইড থাকাই ভালো।
বেশি খেয়ে ফেললে কী করবেন
যদি আপনার শিশু বেশি পরিমাণ টুথপেস্ট গিলে ফেলে বা অসুস্থ বোধ করে তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
এড়ানোর উপায়
- বয়স অনুযায়ী টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে। ছোটদের জন্য কম ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট আনতে হবে।
- খুব ছোট শিশুর জন্য ফ্লোরাইডমুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন। যতক্ষণ না তারা স্পষ্টভাবে থুতু ফেলতে শিখছে।
- লেবেল মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। কারণ, শিশুদের কিছু টুথপেস্টে বেশি পরিমাণ ফ্লোরাইড থাকে।
- আট বছর বয়স পর্যন্ত ব্রাশিংয়ে মা–বাবার তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।
- টুথপেস্ট শিশুর নাগালে রাখবেন না।
- ছোট শিশুদের জন্য টুথপেস্টের পরিমাণ রাখুন ধানের দানা বা চাল দানার মতো।
শেষ কথা
টুথপেস্টের ফ্লোরাইড দাঁতের জন্য উপকারী। কিন্তু বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলা নিরাপদ নয়। বাবা-মায়েদের দায়িত্ব হলো সঠিক পরিমাণ টুথপেস্টের ব্যবহার নিশ্চিত করা। শিশুদের ব্রাশ করার সময় তত্ত্বাবধান করা।
খবরওয়ালা/এসআর



