ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৬০৮

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬০৮ জন। মৃতদের মধ্যে দুজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার বাসিন্দা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, নতুন ছয়জনের মৃত্যু নিয়ে ২০২৬ সালে দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৯ জনে। সরকারি ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডেও চলতি বছরের মৃত্যুর সংখ্যা ২৫০ পর্যন্ত দেখানো হয়েছে—দৈনিক বুলেটিন ও ড্যাশবোর্ডের হালনাগাদের সময়ের পার্থক্যের কারণে সংখ্যায় সামান্য তারতম্য থাকতে পারে।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সবচেয়ে বড় চাপ দেখা গেছে সেপ্টেম্বর মাসে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, ওই মাসে মারা গেছেন ১৪৮ জন। আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়।

এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১,৬০৮

শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬০৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ৩৬৯ জনে পৌঁছেছে।

একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৬২১ জন। ফলে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৮ হাজার ৪৮২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গুর দৈনিক সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সরকারি ড্যাশবোর্ডের তথ্যেও ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৮২ হাজারের বেশি আক্রান্ত রোগীর হিসাব দেখা যাচ্ছে।

ঢাকায় সর্বোচ্চ, চট্টগ্রামেও বেশি রোগী

গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে—৫২৫ জন। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে নতুন রোগীর সংখ্যা ৩১৯।

অন্যান্য বিভাগের চিত্রও কম উদ্বেগজনক নয়। খুলনায় ২৭৬ জন, বরিশালে ২১৫ জন, রাজশাহীতে ১৩২ জন, ময়মনসিংহে ৭৯ জন এবং রংপুরে ৬২ জন নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এক দিনে ১ হাজার ৬০৮ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিপরীতে ১ হাজার ৬২১ জন সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পাওয়া রোগীর সংখ্যা নতুন ভর্তি রোগীর তুলনায় ১৩ জন বেশি হলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোট রোগীর ওপর এর প্রভাব সীমিত।

ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত এডিস মশার বিস্তার, জমে থাকা পানি এবং অনুকূল আবহাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সময়ে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা বাড়ানো নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর জ্বর কমে গেলেই ঝুঁকি শেষ হয়েছে—এমন ধারণা ঠিক নয়। রোগের বিভিন্ন পর্যায়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই ১৪৮ জনের মৃত্যুর তথ্য এবং অক্টোবরের শুরুতেও দৈনিক মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকা ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। একই সঙ্গে ৮৪ হাজারের বেশি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর হিসাব দেখাচ্ছে, সংক্রমণের চাপ শুধু রাজধানী বা বড় শহরকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এর বিস্তার রয়েছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।