স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ এবং চারজন নারী। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারী রোগীর সংখ্যা সামান্য বেশি। মোট মৃতদের মধ্যে পুরুষের হার প্রায় ৪৮ শতাংশ, আর নারীর হার প্রায় ৫২ শতাংশ।
নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তির ফলে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৮ হাজার ৩৬০ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯৮৮ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ৮২ হাজার ৩৩৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সংখ্যা ৪০১ জন। এরপর রয়েছে খুলনা বিভাগ, যেখানে ৩০৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন করে ২৭২ জন, বরিশালে ২১৬ জন, রাজশাহীতে ১০৫ জন, ময়মনসিংহে ৯৮ জন এবং রংপুরে ৬৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাতেও রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ২০৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ২২৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির চিত্র
| এলাকা | নতুন ভর্তি |
|---|---|
| ঢাকা বিভাগ, সিটি করপোরেশনের বাইরে | ৪০১ |
| খুলনা বিভাগ | ৩০৬ |
| চট্টগ্রাম বিভাগ | ২৭২ |
| ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন | ২২৩ |
| বরিশাল বিভাগ | ২১৬ |
| ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন | ২০৬ |
| রাজশাহী বিভাগ | ১০৫ |
| ময়মনসিংহ বিভাগ | ৯৮ |
| রংপুর বিভাগ | ৬৬ |
| মোট | ১,৮৯৩ |
প্রকাশিত বিভাগভিত্তিক সংখ্যাগুলো যোগ করলে ১ হাজার ৮৯৩ জন পাওয়া যায়, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মোট নতুন ভর্তি ১ হাজার ৯০২ জনের চেয়ে ৯ জন কম। ফলে বুলেটিনে উল্লেখিত মোট সংখ্যার সঙ্গে উপস্থাপিত বিভাগভিত্তিক হিসাবের সামান্য অমিল রয়েছে। সংবাদে তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া মোট ভর্তি সংখ্যা ১ হাজার ৯০২ জনই অনুসরণ করা হয়েছে।
মৃত্যুর হিসাবেও ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই এলাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা এখন ২৭১।
একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পাওয়া রোগীর সংখ্যা নতুন করে ভর্তি হওয়া রোগীর তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এখনও অনেক বেশি। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রোগী শনাক্তকরণ, দ্রুত চিকিৎসা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগের হাসপাতালগুলোতেও নতুন রোগী ভর্তি হওয়া অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


