যাত্রীবাহী বাসের চেসিসের ভেতরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে পরিবহন করা ১২০ কেজি গাঁজার একটি বড় চালান জব্দ করেছে এসআরবি-৬। এ ঘটনায় বাসচালক, হেলপারসহ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা গাঁজা ছয়টি পৃথক কার্টনে রাখা ছিল।
আটক ব্যক্তিরা হলেন পারভেজ, নূর আমিন ও আমিনুর রহমান। তাদের সবার বাড়ি রংপুর সদর উপজেলায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এসআরবি-৬-এর খুলনা কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ ফজলুর রহমান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, ঢাকার কাঁচপুর এলাকা থেকে গাঁজার একটি বড় চালান নিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ হয়ে মোংলার দিকে যাচ্ছে। তথ্য পাওয়ার পর বাসটির গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করা হয়।
পরে বাসটি ব্রাহ্মণমেঠ এলাকায় পৌঁছালে সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসের চালক, হেলপার ও আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বাসের পেছনের অংশের চেসিসের ভেতরে গাঁজা লুকিয়ে রাখার তথ্য পাওয়া যায়।
এরপর সংশ্লিষ্ট স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি কার্টন উদ্ধার করা হয়। কার্টনগুলো খুলে মোট ১২০ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। যাত্রীবাহী বাসের স্বাভাবিক কাঠামোর আড়ালে চেসিসের ভেতরে মাদক লুকিয়ে পরিবহনের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে তল্লাশির সময়।
এসআরবি-৬ সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা একই পরিবহনে এর আগেও গাঁজা বহন করা হয়েছিল বলে তথ্য দিয়েছেন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ওই পরিবহনটি ব্যবহার করে মাদক সরবরাহের একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং চালানটি কোথায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, তা জানতে আটক ব্যক্তিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটক তিনজনের দেওয়া তথ্য যাচাই করে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এর আগে এই পরিবহনের মাধ্যমে কোনো মাদক চালান সরবরাহ করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আটক তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের পর মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


