দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৯ জনে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে। এ দুই বিভাগে দুজন করে মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন মোট ৫১ হাজার ৮৩৭ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৮৩৭ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর বিস্তারের চিত্রও তুলে ধরছে। শুধু রাজধানী বা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে রোগটির সংক্রমণ সীমাবদ্ধ নেই; চট্টগ্রাম, খুলনা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ—একাধিক বিভাগে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে জ্বরের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেরি করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১৪৯ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫১ হাজার। প্রতিদিন নতুন করে বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। রোগের বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা এবং মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো জরুরি। একই সঙ্গে জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক প্রতিবেদনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে দেশে চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির গুরুত্ব স্পষ্ট হচ্ছে। নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমাতে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।


