ঢাকায় বাপ্পা মজুমদার ও জলের গানের সুরে মাতবে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, সংগীত, চিত্রকলা ও নাটক নিয়ে থাকছে নানা আয়োজন। দিনের উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার ও লোকজ সুরের সঙ্গে আধুনিক সংগীতের মেলবন্ধনে পরিচিত ব্যান্ড জলের গান। পাশাপাশি শিল্পী তাইয়েবা বেগম লিপির অংশগ্রহণে শিল্পবিষয়ক আলোচনা, দুর্গাকে কেন্দ্র করে চিত্র প্রদর্শনী, বাংলাদেশের সাত দশকের অঙ্কনচর্চা নিয়ে আয়োজন এবং মঞ্চনাটকও থাকছে সাংস্কৃতিক সূচিতে।

সংগীতপ্রেমী থেকে শুরু করে চিত্রকলা ও নাট্যকলায় আগ্রহী দর্শক—সবার জন্যই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রয়েছে পছন্দ অনুযায়ী অনুষ্ঠান বেছে নেওয়ার সুযোগ। বড় পরিসরের আয়োজনের বাইরে ঘরোয়া পরিবেশে সরাসরি গান শোনা, শিল্পীদের ভাবনা জানা এবং গ্যালারিতে বিভিন্ন সময়ের শিল্পকর্ম দেখার অভিজ্ঞতা নগরীর সাংস্কৃতিক জীবনকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলছে।

বাপ্পা মজুমদারের ‘মুনলিট মেলোডি’

শুক্রবার সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ‘মুনলিট মেলোডি’। এ আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করবেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার। ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নিজস্ব কণ্ঠশৈলী ও স্বতন্ত্র সংগীতধারার মাধ্যমে বাপ্পা মজুমদার বাংলাদেশের আধুনিক গানের জগতে পরিচিত একটি নাম। দীর্ঘদিনের সংগীতচর্চা এবং শ্রোতাদের কাছে তাঁর গানের গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে বিভিন্ন প্রজন্মের সংগীতপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

‘মুনলিট মেলোডি’তে শ্রোতারা সরাসরি তাঁর গান উপভোগ করার সুযোগ পাবেন। রেকর্ড করা গানের বাইরে সরাসরি পরিবেশনার আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। শিল্পীর কণ্ঠ, সুরের উপস্থাপনা এবং দর্শকদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে লাইভ সংগীতের অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

যাঁরা বাংলা আধুনিক গান শুনতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য সন্ধ্যার এই আয়োজনটি বিশেষ আকর্ষণ হতে পারে।

বনানীতে জলের গানের সংগীত আসর

একই দিন রাত ৮টায় বনানীর বাটারনোট জ্যাজ ক্যাফেতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ‘আড্ডায় জলের গান’। এতে সংগীত পরিবেশন করবে বাংলাদেশের ব্যান্ড জলের গান।

লোকজ সংগীতের আবহকে সমকালীন সংগীতায়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছে ব্যান্ডটি। বাংলা লোকসংগীতের ঐতিহ্য ও আধুনিক সুরের সমন্বয় তাদের পরিবেশনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রচলিত ধারার বাইরে ভিন্ন ধরনের সংগীত শুনতে আগ্রহী শ্রোতাদের কাছে এ ধরনের আয়োজন বিশেষ আবেদন তৈরি করে।

ছোট পরিসরের ভেন্যুতে সংগীতানুষ্ঠানের একটি আলাদা পরিবেশ থাকে। এখানে দর্শকেরা তুলনামূলক ঘনিষ্ঠভাবে শিল্পীদের পরিবেশনা উপভোগ করতে পারেন। একই সঙ্গে ব্যান্ড ও স্বাধীন সংগীতশিল্পীদের জন্য এ ধরনের মঞ্চ শ্রোতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করে।

ঢাকার সাংস্কৃতিক পরিসরে ছোট ভেন্যুভিত্তিক সংগীতানুষ্ঠান বৈচিত্র্য আনছে। বড় কনসার্টের পাশাপাশি এসব আয়োজন সংগীতপ্রেমীদের সামনে নতুন অভিজ্ঞতা তুলে ধরছে এবং বিকল্প ধারার সংগীতের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে।

শিল্পী তাইয়েবা বেগম লিপিকে নিয়ে আলোচনা

সংগীতের বাইরেও শুক্রবারের সাংস্কৃতিক সূচিতে রয়েছে শিল্পকলা নিয়ে আলোচনা। বিশিষ্ট বাংলাদেশি শিল্পী তাইয়েবা বেগম লিপি অংশ নেবেন ‘বিয়িং অ্যান্ড বিলংগিং’ শীর্ষক একটি আলোচনায়। বিকেল ৫টায় মালিবাগের কসমস সেন্টারে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আলোচনায় শিল্পীর সৃজনশীল যাত্রা, ব্যক্তিগত পরিচয় এবং নিজের অবস্থান ও অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি নিয়ে কথা হবে। একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কীভাবে তাঁর কাজের বিষয়বস্তু ও প্রকাশভঙ্গিকে প্রভাবিত করে, তা বোঝার জন্য এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।

শিল্পকর্মের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা জানার সুযোগ দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে। বিশেষ করে শিল্পকলা নিয়ে পড়াশোনা করেন কিংবা সমকালীন শিল্পচর্চা সম্পর্কে জানতে চান, এমন দর্শকদের জন্য আয়োজনটি আগ্রহের বিষয় হতে পারে।

‘শিল্পীর চোখে দুর্গা’ প্রদর্শনী

ধানমন্ডির গ্যালারি চিত্রকে ৯ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ‘শিল্পীর চোখে দুর্গা’ শীর্ষক প্রদর্শনী। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য এটি খোলা থাকার কথা রয়েছে।

দেবী দুর্গাকে কেন্দ্র করে শিল্পীদের ভিন্ন ভিন্ন শৈল্পিক ব্যাখ্যা ও উপস্থাপনা এ প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ। বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে দুর্গার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। সেই পরিচিত বিষয়কে শিল্পীরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি, রং, রেখা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে কীভাবে প্রকাশ করেন, তা দেখার সুযোগ মিলবে প্রদর্শনীতে।

একই বিষয় নিয়ে একাধিক শিল্পীর কাজ দেখলে তাঁদের চিন্তা ও প্রকাশভঙ্গির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে দর্শকেরা শুধু শিল্পকর্ম উপভোগই করেন না, বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কীভাবে বিভিন্ন শিল্পীর হাতে নতুন রূপ পায়, সে সম্পর্কেও ধারণা লাভ করেন।

বাংলাদেশের সাত দশকের অঙ্কনচর্চা নিয়ে ‘আনব্রোকেন লাইন’

বাংলাদেশের চিত্রকলার বিকাশ নিয়ে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে ‘আনব্রোকেন লাইন’ শীর্ষক প্রদর্শনী। ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রদর্শনীটি চলার কথা রয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকেরা এটি দেখতে পারবেন।

বাংলাদেশের সাত দশকের অঙ্কনচর্চাকে কেন্দ্র করে সাজানো এ প্রদর্শনীতে পথিকৃৎ শিল্পীদের পাশাপাশি সমকালীন শিল্পীদের কাজও স্থান পাবে। এর মধ্য দিয়ে দেশের চিত্রকলার বিভিন্ন সময়ের ধারা, শৈলী ও সৃজনশীল প্রকাশের পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

অঙ্কন চিত্রকলার একটি মৌলিক মাধ্যম। কখনো এটি স্বতন্ত্র শিল্পকর্ম হিসেবে উপস্থাপিত হয়, আবার কখনো বৃহত্তর শিল্পসৃষ্টির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। সময়ের সঙ্গে শিল্পীদের বিষয় নির্বাচন, রেখার ব্যবহার এবং প্রকাশভঙ্গিতে যে পরিবর্তন আসে, তা বোঝার জন্য বিভিন্ন প্রজন্মের কাজ পাশাপাশি দেখার গুরুত্ব রয়েছে।

‘আনব্রোকেন লাইন’ দর্শকদের বাংলাদেশের শিল্পচর্চার অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সংযোগ খুঁজে দেখার সুযোগ দেবে। মাসের শেষ পর্যন্ত চলার কথা থাকায় এক দিনের মধ্যে প্রদর্শনীটি দেখার পরিকল্পনা করতে না পারলেও দর্শকদের সামনে পরবর্তী সময়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

মঞ্চে আসছে সেলিম আল দীনের ‘আতর আলীদের নীলাভ পাট’

নাট্যপ্রেমীদের জন্য ৯ ও ১০ অক্টোবর মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে ‘আতর আলীদের নীলাভ পাট’ নাটকটি। সেলিম আল দীনের রচনায় নাটকটির প্রদর্শনী হবে রাজধানীর মগবাজারের পালাকার রুফটপ স্টুডিওতে। দুই দিনই সন্ধ্যা ৭টায় নাটক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নাটকটিতে গ্রামীণ বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পর্ক, আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মানুষের আশা-হতাশার মতো বিষয় নাটকের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে সেলিম আল দীনের রচনাশৈলী ও দেশজ জীবনভিত্তিক নাট্যভাবনা বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর নাটকে বাংলার স্থানীয় জীবন, ভাষা ও সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। ফলে তাঁর রচনার মঞ্চায়ন দর্শকদের সামনে গ্রামীণ সমাজ ও মানুষের অভিজ্ঞতা উপলব্ধির একটি সুযোগ তৈরি করে।

মঞ্চনাটকের বিশেষত্ব হলো, দর্শকেরা একই সময়ে শিল্পীদের অভিনয় ও গল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারেন। সেই বিবেচনায় ‘আতর আলীদের নীলাভ পাট’ নাট্যপ্রেমীদের জন্য দিনের সাংস্কৃতিক সূচিতে আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

একই দিনে নানা আয়োজন, পছন্দমতো বেছে নেওয়ার সুযোগ

৯ অক্টোবরের অনুষ্ঠানসূচিতে সংগীত, চিত্রকলা ও নাটকের সমন্বয় ঢাকার সাংস্কৃতিক জীবনের বৈচিত্র্য তুলে ধরছে। বাপ্পা মজুমদারের ‘মুনলিট মেলোডি’ এবং জলের গানের ‘আড্ডায় জলের গান’ সংগীতপ্রেমীদের জন্য দুটি আলাদা অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, শিল্পী তাইয়েবা বেগম লিপির সঙ্গে আলোচনা এবং দুটি চিত্র প্রদর্শনী শিল্পানুরাগীদের জন্য ভিন্ন ধরনের আয়োজন নিয়ে হাজির হচ্ছে।

নাট্যপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে সেলিম আল দীনের রচনার মঞ্চায়ন। ফলে একই দিনে দর্শকেরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী সংগীত, শিল্পকলা কিংবা নাটকের মধ্য থেকে পছন্দের অনুষ্ঠান বেছে নিতে পারবেন।

তবে একাধিক আয়োজন বিকেল ও সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনুষ্ঠান নির্বাচন করার সময় ভেন্যুর দূরত্ব, যাতায়াতের সময় এবং শুরুর সময় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বাপ্পা মজুমদারের পরিবেশনা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এবং জলের গানের অনুষ্ঠান রাত ৮টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুই ভেন্যুতে যাতায়াতের বাস্তবতা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সব মিলিয়ে, রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ৯ অক্টোবর হতে যাচ্ছে বৈচিত্র্যময় একটি দিন। পরিচিত সংগীতশিল্পীর পরিবেশনা, লোকজ সুরের আধুনিক উপস্থাপনা, শিল্পীদের ভাবনা নিয়ে আলোচনা, চিত্রকলার প্রদর্শনী এবং মঞ্চনাটক—সব মিলিয়ে নগরবাসীর জন্য থাকছে শিল্প ও সংস্কৃতির নানা স্বাদ নেওয়ার সুযোগ।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।