ঢাকাসহ ছয় জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসহ মোট ছয়টি জেলায় তীব্র ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার এই পূর্বাভাস কার্যকর থাকবে বলে সংস্থার নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে।

নদীবন্দরে বিশেষ সতর্কবার্তা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে তীব্র গতির বায়ুপ্রবাহ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই ঝোড়ো হাওয়ার সাথে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উক্ত পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় এই ছয়টি জেলার নদীবন্দরসমূহকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। নৌযানগুলোকে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা না ঘটে।

অন্যান্য অঞ্চলের আবহাওয়ার অবস্থা

উল্লেখিত জেলাগুলো ছাড়াও দেশের বাকি অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে একই দিক (পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম) থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সাথে এসব এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই জেলাগুলোর নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে।

সতর্কবার্তা ও বাতাসের গতিবেগের সারসংক্ষেপ

নিচে বিভিন্ন অঞ্চলভেদে বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ এবং প্রদর্শিত সতর্কসংকেতের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

অঞ্চলের নাম বাতাসের গতিবেগ (ঘণ্টায়) সতর্কতা সংকেত আবহাওয়া পরিস্থিতি
টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা ৬০ – ৮০ কিলোমিটার ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি
ফরিদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী ৬০ – ৮০ কিলোমিটার ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি
দেশের অন্যান্য অঞ্চলসমূহ ৪৫ – ৬০ কিলোমিটার ১ নম্বর সতর্কসংকেত দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি

আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণ ও দিকনির্দেশনা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে জলীয় বাষ্পের আধিক্য এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শীতল বায়ুর সংমিশ্রণে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত গ্রীষ্মকালীন সময়ে এই ধরনের আকস্মিক ঝড় বা কালবৈশাখীর প্রবণতা বেশি থাকে।

নৌযান চালকদের জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত চলাকালীন নৌযানগুলোকে তীরের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে হবে। বিশেষ করে ছোট লঞ্চ বা স্পিডবোটগুলোকে প্রতিকূল আবহাওয়ায় যাত্রা বিরতি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ নাগরিকদের বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সারাদেশের সার্বিক তাপমাত্রার ক্ষেত্রে এই বৃষ্টিপাতের ফলে কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা চলমান জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। তবে ঝোড়ো হাওয়ার কারণে কাঁচা ঘরবাড়ি বা ফসলি জমির আংশিক ক্ষতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান করবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।