খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে বা নিচ্ছে—এমন ধারণা সঠিক নয় এবং দলটি দেশের আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। তিনি এ মন্তব্য করেন যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের মানুষের রাজনৈতিক স্মৃতিশক্তি দীর্ঘ নয়, ফলে রাজনৈতিক দলগুলো সময়ের ব্যবধানে পুনরায় সক্রিয় অবস্থানে ফিরে আসে। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও এমন সম্ভাবনা রয়েছে এবং দলটি ভবিষ্যতে নির্বাচনী রাজনীতিতে পুনরায় যুক্ত হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকালীন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এম তৌহিদ হোসেন জানান, তিনি দায়িত্ব পালনকালে অন্তত তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে অনুরোধ জানানো হয়, তখন তার পদত্যাগ অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য জটিল ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ কারণে তিনি দায়িত্ব অব্যাহত রাখেন বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে কোনো ‘ডিপস্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তির ভূমিকা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় সব বড় ঘটনার পেছনেই বিভিন্ন ধরনের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা থাকে। তবে তারা সাধারণত পরিস্থিতির বিপরীতে কাজ না করে বিদ্যমান প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতিকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ভেতরে একটি অনানুষ্ঠানিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল বলে তিনি বিভিন্ন সময়ে শুনেছেন। তিনি জানান, এক বিশেষ উপলক্ষে যমুনায় অনুষ্ঠিত এমন একটি বৈঠকে তাকে অংশ নিতে হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, এই ধরনের একটি গ্রুপ প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করত এবং সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব রাখত বলে আলোচনা রয়েছে।
সাবেক এই উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, সরকার পরিচালনার ভেতরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে এমন অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা ও গুঞ্জন ছিল, যা তার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভোটের তিন দিন আগে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো পরিস্থিতিগত বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে, তবে বিকল্প সুযোগ থাকলে বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত হতো।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গে এম তৌহিদ হোসেন বলেন, ওই চিঠির ইতিবাচক জবাব আসবে না—এটি তিনি আগেই অনুমান করেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এমন চিঠির কোনো উত্তর না পাওয়ার বিষয়টি অপ্রত্যাশিত ছিল না এবং বাস্তব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি কোনো ভিন্ন প্রত্যাশাও করেননি বলে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।