নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ব্যস্ত সময়ে একটি স্বর্ণের দোকানে ঢুকে মালিককে মারধর করে স্বর্ণালঙ্কার ও রুপা লুট করে নিয়ে গেছে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বন্দর থানার ১ নম্বর ঢাকেশ্বরী বাজারে দেবাশীষ ঢালীর স্বর্ণের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য দিনের বেলায় সংঘটিত এই ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজারের অন্যান্য দোকানিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
দোকান মালিক দেবাশীষ ঢালীর ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একদল লোক হঠাৎ তাঁর দোকানে প্রবেশ করে। তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রথমে তাঁকে মারধর করা হয়। এরপর দোকানে থাকা এক ক্রেতার স্বর্ণালঙ্কারও লুট করা হয়। একই সঙ্গে দোকানের সিন্দুক ও ড্রয়ারে রাখা স্বর্ণালঙ্কার এবং রুপা নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
দেবাশীষ ঢালী জানান, এক ক্রেতার কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণ লুট করা হয়েছে। দোকানের সিন্দুক ও ড্রয়ারে থাকা আরও প্রায় সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায় ডাকাত দলের সদস্যরা। পাশাপাশি আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ ভরি রুপাও লুট হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
অর্থাৎ, দোকান মালিকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী শুধু দোকানে থাকা স্বর্ণালঙ্কারই প্রায় সাড়ে ৪ ভরি এবং একজন ক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া স্বর্ণসহ মোট স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় ৮ ভরি। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রুপা লুট হয়েছে। তবে লুট হওয়া সামগ্রীর মোট আর্থিক মূল্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ঘটনার পর বাজারজুড়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দিনের ব্যস্ত সময়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি একটি স্বর্ণের দোকানে ঢুকে লুটপাট চালিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বর্ণের দোকানে সাধারণত মূল্যবান সামগ্রী থাকার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিসিটিভি ক্যামেরা, দোকানের প্রবেশপথের নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি—এসব ব্যবস্থা থাকলেও এমন ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ঘটনার একটি অংশ দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। ডাকাতির সময়ের সেই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ফুটেজের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ দোকানের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে লুণ্ঠনকারীদের শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে লুণ্ঠনকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে। একই সঙ্গে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তদন্তে ডাকাত দলের সদস্যরা কীভাবে বাজারে প্রবেশ করেছিল, ঘটনার আগে তারা এলাকায় কোনো ধরনের নজরদারি চালিয়েছিল কি না এবং লুটের পর কোন পথে পালিয়েছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হতে পারে। পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য মিলিয়ে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়নি। লুট হওয়া স্বর্ণ ও রুপার পরিমাণ এবং আর্থিক মূল্যও তদন্ত শেষে আরও নির্দিষ্টভাবে জানা যেতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।


