খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে দিনমজুর কাজী ছাওধন মিয়ার ঘরে একটি ফ্যান ও একটি বাতি থাকলেও বিদ্যুৎ বিল এসেছে এক লাখ ৬৭ হাজার টাকা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া এই ভুতুড়ে বিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের সদরঘাট গ্রামে। সাধারণত তার ঘরে মাসে দুই থেকে তিনশ টাকার বেশি বিল আসত না। কিন্তু জুলাই মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৫ টাকা। সেখানে উল্লেখ রয়েছে তিনি নাকি ১০ হাজার ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। বিলম্ব ফি ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫৯৫ টাকা। অথচ জুন মাসে তার বিল ছিল মাত্র ১০৫ টাকা।
কাজী ছাওধন মিয়া বলেন, আমার ঘরে ফ্যান আর বাতি ছাড়া কিছু নেই। এত বড় বিল দেখে হতবাক হয়ে যাই। দুই দিন ধরে মেম্বার-চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ অফিসে ঘুরছি। পরে তারা জানিয়েছেন, বিল সংশোধন করা হবে।
বিদ্যুৎ অফিস সূত্র জানিয়েছে, বিল প্রস্তুতের সময় কম্পিউটার ব্যবহারে ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। বিল প্রস্তুতকারী কর্মচারী ক্ষমা দাশ বলেন, ইচ্ছে করে নয়, কম্পিউটারের ভুলে এমন হয়েছে।
নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিল প্রস্তুতকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সংশোধিত বিল দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর হবে না।
তবে শুধু ছাওধন মিয়ার বিল নয়, চলতি আগস্ট মাসে হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলার হাজারো গ্রাহক দ্বিগুণ বিলের ভোগান্তিতে পড়েছেন।
দৌলতপুর গ্রামের বদরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য দুটি মিটার লাগালেও এখন আগের চেয়ে বেশি বিল আসে। ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, আগে মাসে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বিল আসত, কিন্তু এবার এসেছে ১ হাজার ৬০০ টাকা।
একইভাবে কাজল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশীর মিটারে ১ হাজার ২২০ ইউনিট দেখালেও বিলে ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ ইউনিট। এভাবে অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন