দুপুরে ‘আজীবনের জন্য বহিষ্কার’— বিকেলে দলীয় সভায় প্রধান বক্তা! এমন একটি ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়নে।
বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মা, যিনি পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বুধবার দুপুরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্তে আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত হন। অথচ মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর, বিকেলেই তিনি জিউপাড়ার একটি দলীয় অনুষ্ঠানে গলা উঁচিয়ে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন!
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অনেকে বিস্মিত, কেউ ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ— বহিষ্কৃত নেতাকে মঞ্চে জায়গা দিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তকে অবমূল্যায়ন এবং জেলা নেতাদের অসম্মান করা হয়েছে।
জানা যায়, শুধু দলীয় শৃঙ্খলা নয়, আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাস, শিক্ষক হয়রানি এবং সেনাসদস্যদের বাড়িতে হামলার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণেই একইসঙ্গে আনোয়ারুল ও বানেশ্বর ইউনিয়নের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
তবু কীভাবে তিনি প্রধান বক্তা?
আনোয়ারুল জবাব দিলেন স্বরচিত নাটকীয় ভঙ্গিতে, “কলমের পাওয়ার আছে, বহিষ্কার করেছে— তো কী হয়েছে? বড় প্রোগ্রাম করেছি। আমি তো জনগণের সঙ্গে আছি!”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, যিনি বলছেন— তিনি ‘বহিষ্কারের খবর জানতেন না’।
তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টিকে সরাসরি “রাজনৈতিক দায়িত্বহীনতা” বলেই অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, “এটা বিয়ের দাওয়াত না— যে ইচ্ছা হলে গিয়ে বসলেন। এটা ছিল দলীয় কর্মসূচি। বহিষ্কৃত কাউকে নিয়ে অনুষ্ঠান করাটা পরিষ্কারভাবে শৃঙ্খলা ভঙ্গ।”
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বিশ্বনাথ সরকারও একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
খবরওয়ালা/এমএজেড



