ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে তিনি শর্ত দিয়েছেন—শুধুমাত্র বৈধ সরকারের অধীনে দেশে ফিরবেন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ যদি অংশগ্রহণের সুযোগ না পায়, লাখ লাখ সমর্থক ভোটে অংশ নেবে না। তিনি আরও বলেন, নিজ দলের অংশ ছাড়া গঠিত কোনো সরকারের অধীনে তিনি দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন না এবং আপাতত ভারতে অবস্থান করবেন।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতে চলে যান। ওই আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল; জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কমপক্ষে ১,৪০০ জন নিহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। এর অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আহত। এই সহিংসতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তারপরও শেখ হাসিনা অভিযুক্ত হয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তাকে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের দমনপীড়ন ও রাজনৈতিক বিরোধীদের গুম এবং নির্যাতনের জন্য দায়ী করেছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই কার্যক্রমগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রায়ের ফলাফল আগেই নির্ধারিত ছিল। আমাকে যথাযথ নোটিশ বা প্রতিরক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র অবিচার নয়, এটি স্বয়ংবধির ফলও। পরবর্তী সরকার নির্বাচনী বৈধতা বজায় রাখবে—এবং লাখ লাখ সমর্থক যেহু আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন জানায়, তারা ভোট দেবে না। একে উপেক্ষা করলে কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্ভব নয়।’
বাংলাদেশে বর্তমানে ১২৬ মিলিয়নের বেশি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশীয় রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে, এবং বিএনপির প্রার্থীরা এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সমর্থকদের অন্য কোনো দলের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বলছি না। আমরা আশা করি যুক্তি-বুদ্ধি কাজ করবে এবং আমাদের দল নিজেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।’
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানাননি যে, তার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো পেছনের দরজা আলোচনার ব্যবস্থা চলছে কি না। তবে জানানো হয়েছে, তার ছেলে ও উপদেষ্টা সাজীব ওয়াজেদ প্রয়োজনে দলের নেতৃত্ব নিতে পারেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটি আমার বা আমার পরিবারের বিষয় নয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য সংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো এক ব্যক্তি বা পরিবার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।’
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তার একটাই শর্ত—সরকার বৈধ হবে, সংবিধান রক্ষা করা হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত থাকবে। বর্তমানে তার দল ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তিনি জানান, দেশে ফিরলেও তার বা পরিবারের উপস্থিতি দলের নেতৃত্বে আবশ্যক নয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা ঘটেছিল। তবে এখন পর্যন্ত শহরের রাস্তাগুলো আপাতত শান্ত রয়েছে। তবে সম্প্রতি রাষ্ট্র সংস্কারের চুক্তি স্বাক্ষরের সময় কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে স্বাধীনভাবে বসবাস করছেন, তবে পরিবারের ইতিহাস ও রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে সতর্ক রয়েছেন।



