যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একই আয়োজনে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনের তিন পরিচিত মুখ রিচি সোলায়মান, শারমিন সিরাজ সোনিয়া ও সংগীতশিল্পী রিজিয়া পারভীন। আজ নিউইয়র্কের উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁদের ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায় দেখা যাবে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ মঞ্চনাটক ‘বিবাহ সমাচার’। নাটকটিতে অভিনয় করবেন অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান। নাটকটির রচনা ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন নাট্যকার ও নির্মাতা জিনাত হাকিম। আয়োজনের উপস্থাপনা করবেন শারমিন সিরাজ সোনিয়া। ফলে একই অনুষ্ঠানে অভিনয়, উপস্থাপনা ও সংগীত—তিনটি আলাদা পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
‘বিবাহ সমাচার’ নাটকে অভিনয়ের বিষয়ে রিচি সোলায়মান বলেন, নাটকটিতে তিনি একটি দারুণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। দর্শকের কাছে চরিত্রটি ভালো লাগবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে শুধু অভিনয়েই তাঁর দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। অনুষ্ঠানের আয়োজক তাঁর বড় ভাই ফাহাদ সোলায়মান হওয়ায় আয়োজনের আনুষঙ্গিক বিভিন্ন কাজেও তাঁকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।
রিচির বক্তব্যে বোঝা যায়, এবারের আয়োজনটি তাঁর কাছে কেবল মঞ্চে অভিনয়ের একটি সুযোগ নয়; পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একটি বিশেষ অনুষ্ঠান হিসেবেও এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি আয়োজনের বিভিন্ন বিষয়ে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাঁর ব্যস্ততাও বেড়েছে।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শারমিন সিরাজ সোনিয়া এ ধরনের আয়োজনকে শিল্পীদের পাশাপাশি দর্শকদের জন্যও আনন্দঘন মিলনমেলা হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার সময় অনেক পরিচিত মানুষের সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও গল্প ও আড্ডার পরিবেশ তৈরি হয়, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
সোনিয়া আশা করছেন, দর্শকেরা ‘বিবাহ সমাচার’ উপভোগ করার পাশাপাশি রিজিয়া পারভীনের সংগীত পরিবেশনাও উপভোগ করবেন। নাটকের পরই মঞ্চে গান পরিবেশন করবেন রিজিয়া পারভীন। ফলে নাট্যপ্রেমী দর্শকদের জন্য যেমন অভিনয়ের আয়োজন থাকছে, তেমনি সংগীতপ্রেমীদের জন্যও থাকছে আলাদা পরিবেশনা।
রিজিয়া পারভীন জানিয়েছেন, তিনি অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন এবং সবার সঙ্গে দেখা হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। গানের মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। তাঁর পরিবেশনা অনুষ্ঠানের শেষ পর্বকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।
প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন দেশীয় নাটক, সংগীত ও বিনোদনের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে একই মঞ্চে পরিচিত কয়েকজন শিল্পীর উপস্থিতি দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। আজকের আয়োজনেও সেই প্রত্যাশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা। মঞ্চনাটক, উপস্থাপনা এবং সংগীত পরিবেশনার সমন্বয়ে কুইন্স প্যালেসের অনুষ্ঠানটি দর্শকদের জন্য একটি বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


