নিখোঁজের দুই দিন পর খালে মিলল শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর মো. ইসমাইল (৭) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম পাড়া সংলগ্ন একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মো. রোকন (১৮) নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত ইসমাইল একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আকবর ও রুমা দম্পতির ছেলে। অন্যদিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া রোকন একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নান্নুর ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ, শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির বাইরে খেলতে যায় ইসমাইল। এরপর কোনো একসময় সে নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। প্রথমে বসতঘরের আশপাশসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন তাঁরা। আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দেরও বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু কোথাও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। দুই দিন পর মঙ্গলবার সকালে খালের ভেতরে একটি বস্তা ভাসতে দেখতে পান স্থানীয়রা। বস্তাটির কাছাকাছি এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাল থেকে বস্তাটি উদ্ধার করে। বস্তার ভেতর থেকে শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে মরদেহটি নিখোঁজ ইসমাইলের বলে শনাক্ত করেন স্বজনরা। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেমে আসে কান্না ও আহাজারি।

তবে শিশুটির কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তাকে কোথা থেকে বস্তায় ভরা হয়েছিল কিংবা কীভাবে খালে ফেলা হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা বলেন, উদ্ধার করা শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রোকন নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। শিশুটির স্বজনরা মামলা করলে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি জানানো হয়নি। হেফাজতে থাকা যুবকের সঙ্গে শিশুটির কী ধরনের সম্পর্ক ছিল কিংবা ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাপ্রবাহও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়া এবং দুই দিন পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ময়নাতদন্তের ফলাফল ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনের বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে।

ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের পাশাপাশি দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।