পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার সাবেক মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলকে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় জিয়াউল হক জুয়েলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ডিবির একটি দল ওই বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় তাকে গ্রেপ্তার করে পরে মিন্টু রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জিয়াউল হক জুয়েলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘ সময় তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সম্প্রতি পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর নথি ও অভিযোগ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কোন কোন মামলায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা রয়েছে, সেসব মামলার অভিযোগ কী এবং মামলাগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থান কী—এ বিষয়ে পুলিশ বা আদালতের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
জিয়াউল হক জুয়েল বাউফল উপজেলা ও পটুয়াখালীর স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন। তিনি পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে বাউফল পৌরসভার মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের একজন পরিচিত নেতা হিসেবে তার অবস্থান ছিল।
পরিবারের সদস্যরা অবশ্য জিয়াউল হক জুয়েলকে ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, তিনি একাধিকবার বাউফল পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পৌর এলাকার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো প্রকাশ্যে না আসায় গ্রেপ্তারের আইনি প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলাগুলোর অভিযোগ ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
জিয়াউল হক জুয়েলের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাউফল ও পটুয়াখালীর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর ধরন, আদালতে তাকে কবে হাজির করা হবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়—এসব বিষয় এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।


