লালমনিরহাটের পাটগ্রামে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ বাবা সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় মামলা করেছেন। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারদহ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী কিশোরী লালমনিরহাট সদর উপজেলার একটি এতিমখানা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।
মামলার এজাহারে কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, বুধবার সেলিম হোসেন তার সৎ মেয়েকে কচুয়ারপাড় এলাকায় তার মামার বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যান। সেখানে কিছু সময় অবস্থান ও খাবার খাওয়ার পর তিনি কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে জগতবেড় ইউনিয়নের টংটিংডাঙ্গা হয়ে কাশিরডাঙ্গা এলাকার একটি বাঁশঝাড়ের দিকে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নির্জন স্থানে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে সড়কের পাশে রেখে সেলিম হোসেন চলে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর কিশোরী স্থানীয় একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়। খবর পেয়ে পাটগ্রাম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে।
পুলিশের সহায়তায় তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর কিশোরীর মা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পাটগ্রাম থানায় যান। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বাদী হয়ে সেলিম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে সেলিম হোসেনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তার মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। এ কারণে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
অভিযোগের বিষয়টি এখন তদন্তাধীন। কিশোরীর চিকিৎসা, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


