খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা এবং সরকারি অফিসগুলোতে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। এদিকে মতলব উত্তর উপজেলায় ঘুষকাণ্ডের পর সাভার পৌরসভায় ‘ঘুষের টাকা’ নিয়ে দুই কর্মকর্তার মধ্যে মারামারির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পসহ দুস্থদের ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছেন সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক।
মোহনগঞ্জ সমাজসেবা কার্যালয় ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, মোজাম্মেল হক ভিক্ষুক পুনর্বাসন, ক্ষুদ্র ঋণ, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি ও মাতৃকেন্দ্রের ঋণ কর্মসূচি থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে এসব টাকা তুলে নেন। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম থেকে ২২ লাখ ৪৭ হাজার, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি থেকে ৪ লাখ ৭৫ হাজার, মাতৃকেন্দ্রের ঋণ থেকে ৫ লাখ ১৩ হাজার এবং ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় দুর্গাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ১৪ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় জেলা কার্যালয়ে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহ আলম বলেন, ‘সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে, চাকরি যাবে এবং টাকাও ফেরত দিতে হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৭ জুলাই সর্বশেষ অফিস করেন মোজাম্মেল হক। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তা–কর্মচারীরা জানান, ব্যক্তিগতভাবে হাওলাত বাবদ তিনি অন্তত কয়েক লাখ টাকা নিয়েছেন। অনেকেই সামাজিক মান-সম্মানের ভয়ে বিষয়টি প্রকাশ করতে চাইছেন না।
জানা যায়, ২০২৪ সালের মে মাসে মোহনগঞ্জ উপজেলায় সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মোজাম্মেল হক। ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি নানা অনিয়ম শুরু করেন।
খবরওয়ালা/এমইউ