খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল চালুর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। প্রকল্পটির কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীতে সিভিল অ্যাভিয়েশন ও এয়ার ট্রাফিক অপারেশন বিষয়ক এক কর্মশালায় বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, থার্ড টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং পরিচালন সক্ষমতা তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জাপানের সঙ্গে একটি চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। চলতি বছরের আগস্টের শেষ ভাগ অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল দেশের বিমান খাতে অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আধুনিক স্থাপত্য, উন্নত যাত্রীসেবা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা সুবিধা যুক্ত এই টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিমান চলাচলের চাপ মোকাবিলা করা সহজ হবে।
এদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বেবিচক জানিয়েছে, বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ড্রোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনতে চলতি বছর একটি এন্টি ড্রোন সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অননুমোদিত ড্রোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
কর্মশালায় দেশের আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) নিয়েও আলোচনা হয়। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সমুদ্রসীমার ওপর দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি উড়োজাহাজের ফ্লাইট পরিচালনায় এটিসি ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু রাজস্ব বাড়াবে না, একই সঙ্গে আকাশপথে নিরাপদ ও কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখবে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক এটিসি ব্যবস্থা দেশের বিমান খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।
থার্ড টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং দেশের পর্যটন ও বাণিজ্য খাতের বিকাশে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।