খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালে একটি মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দেয়াল ধসে দেলোয়ার হোসেন (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় তাঁর মামাতো ভাই নাজমুল হোসেন (৩৩) গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বংশালের মুকিম বাজার এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গুদামের ভেতরে থাকা গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে জমতে থাকা গ্যাস থেকেই এই মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটেছে।
নিহত দেলোয়ার হোসেন মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ আমদানির ব্যবসা করতেন। মুকিমবাজার জামে মসজিদের পাশেই ছিল তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘বাইক পার্টস সেন্টার’। তাঁর গ্রামের বাড়ি যশোরের বেনাপোল এলাকায়। তিনি সপরিবারে ওই তিনতলা ভবনেরই তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। অন্যদিকে দগ্ধ নাজমুল হোসেন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া দোকানকর্মী হামিদুল ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, ভোরে ভবনের নিচতলা থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখেন ভবনের বাসিন্দারা। ধোঁয়া দেখে দেলোয়ার তাঁর মামাতো ভাই নাজমুলকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি দেখতে দ্রুত নিচে নেমে আসেন। তাঁরা গুদামের কাছে পৌঁছানো মাত্রই প্রচণ্ড শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যে নিচতলার একটি ইটের দেয়াল ধসে পড়ে এবং চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধসে পড়া দেয়ালের ভারী ব্লকের নিচে চাপা পড়েন দেলোয়ার হোসেন। আর আগুনের শিখায় গুরুতর দগ্ধ হন নাজমুল।
বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা নিজস্ব উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার টানা চেষ্টার পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধসে পড়া দেয়ালের নিচ থেকে গুরুতর আহত দেলোয়ার এবং দগ্ধ নাজমুলকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, দেলোয়ারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নাজমুলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক জানান, গুদামের দরজা খোলার পরপরই ভেতরে জমে থাকা গ্যাস কোনো স্পার্ক বা আগুনের সংস্পর্শে আসায় এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তা রাশেদ বিন খালিদ জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সুনির্দিষ্ট কারণ ও কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ দল দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষেই প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে। পুরান ঢাকার এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন দুর্ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।