খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
ফুটবল মাঠে শেষ বাঁশি বাজার আগে যে কোনো কিছুই সম্ভব, তা আরও একবার প্রমাণ করল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রায় শেষ সময় পর্যন্ত নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়েও অবিশ্বাস্য এক রূপকথা লিখল আলবিসেলেস্তেরা। দুই গোলে পিছিয়ে থাকার পরও অলৌকিক এক প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে টানটান উত্তেজনা আর রোমাঞ্চকর ফুটবল শৈলী উপহার দিয়ে মাঠ ছেড়েছে দুই দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ল্যাটিন আমেরিকার পরাশক্তি আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরেছিল মিশর। তাদের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ আর গতিময় কাউন্টার অ্যাটাকের সামনে বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিল স্কালোনির রক্ষণভাগ। ফলশ্রুতিতে ম্যাচের প্রথমার্ধেই লিড নেয় মিশর। এরপর দ্বিতীয়ার্ধেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে ব্যবধান ২-০ করে ফেলে তারা। ঘড়ির কাঁটায় যখন ৭৯ মিনিট পার হচ্ছিল, তখন গ্যালারিতে থাকা আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের মুখে ছিল কেবলই হতাশার ছাপ। মাঠের শরীরী ভাষায় মনে হচ্ছিল, টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া এখন আর্জেন্টিনার জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার।
ঠিক তখনই শুরু হয় ফুটবলের সেই চিরচেনা নাটকীয়তা। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা যেন হঠাৎ করেই জেগে ওঠে। স্কালোনির কিছু কৌশলগত পরিবর্তন এবং ফুটবলারদের মরণপণ লড়াই ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেয়। ৮০তম মিনিটে একটি চমৎকার আক্রমণ থেকে প্রথম গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আভাস দেয় আর্জেন্টিনা। এই গোলের পর যেন নতুন রক্ত সঞ্চালিত হয় দলের ভেতর। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে তারা মিশরীয় রক্ষণভাগকে তছনছ করে দেয়।
এর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই মিশরের ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক পাসিং কম্বিনেশন থেকে সমতাসূচক গোলটি তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। ২-২ গোলে সমতা ফেরার পর ম্যাচটি রূপ নেয় এক চরম স্নায়ুযুদ্ধে। যেখানে মিশর চেষ্টা করছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে, সেখানে আর্জেন্টিনা অল-আউট ফুটবল খেলে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই শেষ করতে চেয়েছিল।
নির্ধারিত সময়ের ঠিক শেষ মুহূর্তে বা ইনজুরি টাইমে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মিশরের রক্ষণভাগের একটি ছোট ভুলের সুযোগ নিয়ে জয়সূচক তৃতীয় গোলটি করে আর্জেন্টিনাকে উল্লাসে ভাসায় স্কালোনির দল। মাঠের ফুটবলারদের উদ্দাম উদযাপন আর ডাগআউটে কোচিং স্টাফদের স্বস্তির নিঃশ্বাস বলে দিচ্ছিল এই জয়ের মূল্য কতটা। নিশ্চিত পরাজয়ের হাত থেকে বেঁচে ৩-২ গোলের এই মহাকাব্যিক জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের শেষ আটে বা কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করল তারা। অন্যদিকে, পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেও শেষ মুহূর্তের নার্ভ ধরে রাখতে না পারার হতাশায় টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো মিশরকে।