খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাজীপুর মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আতাউল্লাহ শাহকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দলটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক বিধান অনুযায়ী আতাউল্লাহকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সমস্ত দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংগঠনের মূল নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আসায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত ৫ জুলাই ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত এলাকার একটি বালুর মাঠ থেকে আতাউল্লাহসহ মোট ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এ বি সিদ্দিক তাদের আদালতে হাজির করে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চান। আদালত শুনানি শেষে তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রাবাড়ী এলাকায় নিয়মিত টহল ও অভিযান চালানোর সময় গোপন সূত্রে একটি খবর আসে। সেই তথ্যে জানা যায়, মিনি কক্সবাজার এলাকার আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পাশের একটি বালুর মাঠে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি উগ্রবাদী সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে দ্রুত অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সমবেত ব্যক্তিরা চারদিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আতাউল্লাহসহ এই ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দাবি, আসামিরা মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের আড়ালে মূলত উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের গোপন প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার গণমাধ্যমকে বলেন, রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের আগে সারা দেশে দ্রুত কমিটি দেওয়ার একটা সাংগঠনিক চাপ থাকে। এই তাড়াহুড়োর কারণে কিছু ক্ষেত্রে নতুন পদপ্রার্থীদের অতীত ইতিহাস ও কার্যক্রম নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কিছু সুবিধাবাদী ও বিতর্কিত লোক দলে অনুপ্রবেশ করেছে।
সারোয়ার তুষার আরও দাবি করেন, আতাউল্লাহ শাহর নাম গাজীপুর মহানগর কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও দলের কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তাকে কখনো পাওয়া যায়নি, তিনি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিন্ন একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই তাঁর মূল যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। যাত্রাবাড়ী থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করার পরই বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে আসে এবং কালবিলম্ব না করে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে উগ্রবাদী কোনো নেটওয়ার্ক দেশের উদীয়মান রাজনৈতিক দলগুলোতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজেদের এজেন্ট ঢোকাচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ জানান তিনি।