বিপিএল নিলাম সাধারণত পরিসংখ্যান, বর্তমান ফর্ম এবং সম্ভাবনার সম্মিলিত মূল্যায়ন। এই তিন ক্ষেত্রেই সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম হাবিবুর রহমান। তাই ভিত্তিমূল্য ১৮ লাখ থেকে তাঁর দাম বেড়ে ৫০ লাখে পৌঁছানো আসলে আশ্চর্যের কিছু নয়।
প্রথম আলোড়ন তৈরি হয় রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে। টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ছিলেন হাবিবুর, কিন্তু তাঁকে সবচেয়ে আলোচিত করেছে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে এত দ্রুত সেঞ্চুরি আর কেউ করতে পারেননি। এই রেকর্ডই তাঁকে মূলধারার আলোচনায় নিয়ে আসে। একই টুর্নামেন্টে তাঁর মোট রান ২২৮, যা তিনি করেছেন মাত্র পাঁচ ম্যাচে। তাঁর গড় ৫৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৮২.৪০—উভয়ই টুর্নামেন্টের সেরা পরিসংখ্যানগুলোর একটি।
ছক্কা মারার ক্ষমতা হাবিবুরকে আরও বিশেষ করে তুলে ধরে। ২১টি ছক্কা তাঁকে পুরো টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা–হিটারে পরিণত করেছে। টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে একজন পাওয়ার–হিটার কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তা বিশ্ব ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ধারায় বারবার প্রমাণিত। তাই নিলামে তাঁর প্রতি বাড়তি আগ্রহ ছিল প্রত্যাশিত।
এনসিএল টি–টোয়েন্টি লিগে তাঁর ধারাবাহিকতাও নজরকাড়া। ২০২৩ সালে ২১৮ রান ও ১৮৩ স্ট্রাইক রেট, ২০২৪ সালে ২৫৯ রান ও ১৭ ছক্কা—দুই মৌসুমেই তিনি শীর্ষ পারফর্মারদের অন্যতম।
তবে বিপিএলে এখনো নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। ১৪ ম্যাচে মাত্র ১২৮ রান তাঁকে পিছিয়ে রাখছিল। কিন্তু ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো একটি মৌসুমই সব বদলে দেয়। হাবিবুরের ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিতই দেখা যাচ্ছে। তাঁর রেকর্ড সেঞ্চুরি তাঁকে মানসিকভাবে আরও পরিণত করেছে, আর নোয়াখালীর ৫০ লাখের বিশ্বাস তাঁর ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের ভার দিয়েছে।
এবার যদি তিনি ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তাহলে শুধু তাঁর ক্যারিয়ার নয়, বিপিএলের গতিপ্রকৃতিও বদলে যেতে পারে। তরুণ ওপেনার সামনে এগোলে বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটও পাবে এক নতুন মুখ, এক নতুন পাওয়ার–হিটার।
খবরওয়ালা/এসজে



