পিরোজপুরে দুধ চুরির ঘটনায় ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার

পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দুধ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে স্বরূপকাঠী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বলদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক নাদিম মাহমুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসান শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগের রাতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তে নাদিম মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর নেছারাবাদ উপজেলার ১৪৮ নম্বর দক্ষিণ বিন্না কাইলান্তরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিন্না খালে নৌকাবাইচ উপলক্ষে অতিথিদের আপ্যায়নের আয়োজন চলছিল। ওই সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ৩০ প্যাকেট দুধ নাদিম মাহমুদসহ কয়েকজন নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার পর ৩০ সেপ্টেম্বর নাদিম মাহমুদ ২৭ প্যাকেট দুধ কিনে বিদ্যালয়ে ফেরত দেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাকি তিন প্যাকেট দুধ এরই মধ্যে খাওয়া হয়েছিল।

তবে দুধ নেওয়ার ঘটনাকে নাদিম মাহমুদ চুরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে—এমন অভিযোগের সঙ্গে একমত নন। তাঁর দাবি, দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিদ্যালয় থেকে ৩০ প্যাকেট দুধ নিয়েছিলেন। সেগুলো শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ—এ বিষয়টি তাঁরা জানতেন না। পরে দুধগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত বলে জানতে পারেন এবং ২৭ প্যাকেট নতুন করে কিনে বিদ্যালয়ে ফেরত দেন।

ঘটনাটি নিয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নাদিমকে শুধু নির্দিষ্ট পদ থেকে সরানো হয়নি; প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এটিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার বিষয়টি জানার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত না করায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁকে লিখিতভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

নেছারাবাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম জানান, ঘটনার কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষা অফিসকে বিষয়টি জানায়নি। এ কারণেই প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ ও যথাযথভাবে বিতরণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এসব সামগ্রী নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রশাসনিক নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ।

নেছারাবাদের এই ঘটনায় একদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানাতে বিলম্বের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ফলে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও পৃথকভাবে পর্যালোচনার মধ্যে পড়েছে।

ঘটনার বিষয়ে নাদিম মাহমুদের বক্তব্যে বলা হয়েছে, তিনি ও তাঁর দুই বন্ধু দুধগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ—এ তথ্য জানতেন না। অন্যদিকে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দুধ নেওয়া এবং পরে ২৭ প্যাকেট ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি স্বীকার করা হয়েছে। বাকি তিন প্যাকেটের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সেগুলো ইতোমধ্যে খাওয়া হয়েছিল।

এখন প্রধান শিক্ষকের কারণ দর্শানোর জবাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্যসামগ্রী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিষয়টির প্রশাসনিক দিকটি আরও স্পষ্ট হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।