আজ ১৩ আগস্ট, কিউবান বিপ্লবের স্থপতি ও বিশ্ব রাজনীতির কিংবদন্তি নেতা ফিদেল আলেহান্দ্রো কাস্ত্রো রুজের জন্মদিন। ১৯২৬ সালের এই দিনে কিউবার ওরিয়েন্তে প্রদেশের বিরান শহরে জন্ম নেন তিনি। কৃষিজীবী পরিবারে বেড়ে ওঠা কাস্ত্রো কৈশোরেই সামাজিক অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
শিক্ষাজীবন শেষে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তাঁর প্রকৃত লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক মুক্তি। ১৯৫০-এর দশকে কিউবার যুক্তরাষ্ট্রপন্থী স্বৈরশাসক ফুলহেনসিও বাতিস্তার দমননীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি গড়ে তোলেন সশস্ত্র আন্দোলন। পাহাড়ি এলাকা থেকে গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৯৫৯ সালে বাতিস্তা সরকার পতন করে কিউবায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব প্রতিষ্ঠা করেন।
এরপর পরবর্তী পাঁচ দশক কাস্ত্রো দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ, স্নায়ুযুদ্ধের চাপ ও নানা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত সত্ত্বেও তিনি কিউবাকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। দেশে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন আনেন।
তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ছিল সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম, সামাজিক সমতা এবং আত্মনির্ভরশীল উন্নয়ন। বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতা ও মুক্তির আন্দোলনে তিনি অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠেন। আফ্রিকার মুক্তিযুদ্ধে, লাতিন আমেরিকার বিপ্লবী আন্দোলনে এবং তৃতীয় বিশ্বের স্বার্থ রক্ষায় কাস্ত্রোর ভূমিকা ছিল যুগান্তকারী।
২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর, ৯০ বছর বয়সে ফিদেল কাস্ত্রো মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর বিপ্লবী চেতনা ও সংগ্রামের অনুপ্রেরণা আজও কিউবা এবং বিশ্বজুড়ে ন্যায়, সমতা ও স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত।
ফিদেল কাস্ত্রো একজন নেতা, যিনি দেখিয়েছেন যে অদম্য বিশ্বাস ও জনতার ঐক্য দিয়ে ইতিহাস বদলে দেওয়া যায়।
খবরওয়ালা/এমএজেড



