বঙ্গোপসাগরে সাম্প্রতিক জরিপ ও গবেষণার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা দিয়েছে। গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এই সমুদ্র সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যদিকে জেলি ফিশের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা সমুদ্রের ইকোসিস্টেমে ভারসাম্যহীনতার নির্দেশক। একই সঙ্গে প্লাস্টিক দূষণ সাগরের দুই হাজার মিটার গভীরে (প্রায় দুই কিলোমিটার) পৌঁছেছে।
তবে আশার খবর হলো, নতুন ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণী সনাক্ত হয়েছে। এই তথ্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত বৈঠকে কমিটি কর্তৃক উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
| নাম | পদবী / সংস্থা |
|---|---|
| ফরিদা আখতার | মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা |
| লুৎফে সিদ্দিকী | প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত |
| সায়েদুর রহমান চৌধুরী | অধ্যাপক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস |
| ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন | সহকারী পরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর |
গবেষণা জাহাজ আর.ভি. ড. ফ্রিৎজফ ন্যানসেন ব্যবহার করে আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী জরিপ পরিচালনা করেছেন, যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি। অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে জেলি ফিশের আধিক্য উদ্বেগজনক। এটি মূলত ওভারফিশিংয়ের ফলাফল।” তিনি আরও যোগ করেন, “সাগরের দুই হাজার মিটার গভীরে প্লাস্টিকের উপস্থিতি গভীরভাবে চিন্তাজনক।”
২০১৮ সালের সমীক্ষার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা গেছে, গভীর ও স্বল্প গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা কমছে। বিশেষ করে টার্গেটেড বা ‘সোনার ফিশিং’ পদ্ধতির কারণে মাছের অভাব আরও প্রকট হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ডিপ সি ফিশিংয়ে টুনা মাছের সংখ্যা বেশি এবং সুন্দরবনের নীচে একটি ফিশিং নার্সারি সনাক্ত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে বলেন, “দেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ জলভাগ রয়েছে, কিন্তু আমরা সম্পদগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারিনি। এর জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা, নীতি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন।”
বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির বহুমুখী হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ভেসেলটি সমুদ্রের গভীরতা, তলদেশ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক তথ্য সংগ্রহ করবে। এছাড়া জাপান, ইন্দোনেশিয়া এবং মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। এভাবেই অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”



